কৃষি উৎপাদন বাড়াবে ‘অন্নপূর্ণা’

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ১০:২২ অপরাহ্ণ

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করতে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছেন কয়েক বাঙালি তরুণ৷ সেটা নিয়ে তাঁরা এবার অংশ নিয়েছিলেন মাইক্রোসফট’এর ‘ইমাজিন কাপ’ নামক প্রতিযোগিতায়৷

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বসেছিল ইমাজিন কাপের আসর৷ সেটাতে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশের ‘ইঞ্জিন’ টিম৷ এ দলের সদস্যরা হলেন খালিদ মাহমুদ, আইমান কাদের সিদ্দিকী, জুনায়েদ হাসান ও মেহেনাজ চৌধুরী৷ তাঁরা বুয়েট, অ্যামেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ, এআইইউবি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী৷ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে তাঁরা সিডনিতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন৷

কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৩ সাল থেকে মাইক্রোসফট ‘ইমাজিন কাপ’এর আয়োজন করে আসছে৷ তবে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নিল বাংলাদেশ৷

টিম ইঞ্জিনের তৈরি করা সফটওয়্যার’এর নাম ‘অন্নপূর্ণা’, যার অর্থ অন্নদাত্রী, বা যিনি অন্ন দেন৷ অন্নপূর্ণা আসলেই এমন একটি অ্যাপ্লিকেশন যেটা, কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে অন্ন বা খাদ্যের জোগান করতে সহায়তা করবে৷ এ কারণে বিশ্বের অনেকের কাছেই সফটওয়্যারটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে৷ যার ফল ইমাজিন কাপে সফলতা৷ প্রতিযোগিতার পিপলস চয়েস বিভাগে তিন নম্বর স্থানটি পেয়েছে অন্নপূর্ণা৷

‘ইমাজিন কাপ’ আর অন্নপূর্ণা নিয়ে কথা হচ্ছিল খালিদ মাহমুদের সঙ্গে৷ তিনি বললেন, ‘‘বিশ্বের অন্যতম বড় সমস্যা ক্ষুধা আর দারিদ্র৷ এ কারণে প্রতিবছর বিশ্বের অনেক মানুষ মারা যায়৷ যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে৷ আমরা চিন্তা করলাম কীভাবে এই সমস্যা দূর করা যায়৷ সে থেকেই বছর খানেক আগে অন্নপূর্ণার কথা মাথায় আসে৷”
‘Hurra! Du hast Dich zum SMS-Gottesdienst angemeldet’ erscheint am Donnerstag, 3. Mai 2001, auf dem Display eines Funktelefons, nach der Registrierung bei den Initiatoren des ersten Handy-Gottesdienstes der evangelischen Kirche in Hannover. Verbraucherministerin Renate Kuenast schliesst im Kampf gegen hohe SMS-Gebuehren auch Gesetzesaenderungen nicht aus. In der ‘Bild’-Zeitung vom 21. Januar 2002 sagte die Gruenen-Politikerin: ‘Wenn sich herausstellt, dass Anbieter ihre Marktmacht missbrauchen, muss ueber weitere gesetzliche Regelungen nachgedacht werden’. Neben Frau Kuenast hatten am Wochenende auch andere Politiker und Verbraucherschuetzer heftige Kritik an den sich abzeichnenden, zum Teil drastischen Gebuehrenerhoehungen fuer die Handy-Uebermittlung von Kurzbotschaften geuebt. (AP Photo/Udo Weitz) zu APD9926

তিনি বলেন, ‘‘অন্নপূর্ণার সাহায্যে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব৷ কেননা এটা দিয়ে কৃষক মাটির গুণাগুণ পর্যালোচনা করে সঠিক পরিমাণ সার প্রয়োগ ও সঠিক বীজটি রোপন করতে পারবে৷”

খালিদ বলেন, সিডর’এর কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জমিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে গেছে৷ আর আফ্রিকার জমিতে আয়রনের পরিমাণ বেশি৷ কৃষককে এসব বিষয় মাথায় রেখে সার প্রয়োগ ও বীজ বপন করতে হবে৷ তাহলে উৎপাদন বেশি হবে৷

তিনি বলেন, মাটি বুঝে বীজ বপন করতে হবে৷ যে মাটিতে লবণের পরিমাণ বেশি সেখানে লবণ সহ্য করতে পারে এমন বীজ দিতে হবে৷ আবার সার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে৷ কেননা বেশি সার দিয়ে উৎপাদিত শস্য খাওয়াটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর৷ অনেক ক্ষেত্রে সেটা ক্যান্সারেরও কারণ হতে পারে৷ খালিদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি পাঁচজনের একজন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবেন, যার বড় একটা কারণ হবে বিষাক্ত সার৷ এছাড়া জমিতে অতিরিক্ত সার প্রয়োগে ফলনও কম হতে পারে৷ উপরন্তু পরিবেশের ক্ষতির দিকটা তো রয়েছেই৷

সব মিলিয়ে মাটি বুঝে সার প্রয়োগ আর বীজ বপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ একাজে সহায়তা করে অন্নপূর্ণা৷ স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে কৃষক জানতে পারবে তাঁর জমিতে কী পরিমাণ সার দেয়া উচিত আর কোন বীজ বোনা উচিত৷

ভবিষ্যতে এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ফসলের রোগ নির্ণয় ও তার প্রতিকার সংক্রান্ত তথ্য দেয়ারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে৷

খালিদ বলেন, মাইক্রোসফটের প্রতিযোগিতার কারণে এখন পর্যন্ত শুধু উইন্ডোজ ফোনের জন্য অ্যাপ্লিকেশনটি তৈরি করা হয়েছে৷ ভবিষ্যতে এটা অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের জন্যও তৈরি করা হবে৷

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন স্মার্টফোন৷ যেটা মোটামুটি ব্যয়বহুল৷ তাছাড়া গ্রামের একজন কৃষক স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবে কিনা – সেটাও ভেবে দেখতে হবে৷ এ প্রসঙ্গে খালিদ বলেন, স্মার্টফোনের দাম দিনদিন হাতের নাগালে চলে আসছে৷ আর কৃষকরা না পারলেও সরকার চাইলে মাঠকর্মীদের মাধ্যমে এই সফটওয়্যার’এর উপকারিতা কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারে৷ কেননা গ্রামেগঞ্জে কৃষকদের সহায়তার জন্য সরকারের একটা বিশাল কর্মীবাহিনী রয়েছে৷ এছাড়া বিভিন্ন এনজিও কৃষকদের নিয়ে কাজ করছে৷ তাদের মাধ্যমেও অন্নপূর্ণাকে কৃষকদের কাছে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে৷

খালিদ বলেন, তাঁরা অন্নপূর্ণাকে কাজে লাগানোর জন্য সরকার ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন৷ বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের অন্য দেশেও যেন এটা ব্যবহৃত হয় সেজন্য ইরি’র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গেও ভবিষ্যতে আলোচনা হতে পারে বলে জানান খালিদ৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ


আরোও সংবাদ