কৃষি উৎপাদনে গ্রামীণ নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:০৩ অপরাহ্ণ

গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেখাসজমিতে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে জেলা খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটির মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, ‘পরিসংখ্যানে দেখা গেছে কৃষিজমিতে পুরুষের মালিকানা ৯৬ শতাংশ আর নারীর মালিকানা মাত্র ৪ শতাংশ। অথচ খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদনে গ্রামীণ নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমান অবদান রেখে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারি খাসজমি ও ভূমিতে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও বেশি অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।’

মঙ্গলবার নগরীর সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক এবং জেলা খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর রুহুল আমিন, কমিটির সদস্য শাহাবুদ্দিন, কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের প্রতিনিধি বিলকিছ হক ও বন বিভাগের প্রতিনিধি কাজল তালুকদার।

ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আইএসডিই বাংলাদেশ নির্বাহী পরিচালক এসএম নাজের হোসাইন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রশিকার বিভাগীয় সমন্বয়কারী অজয় মিত্র শংকু। অতিথি বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রেহানা আকতার বেগম ও ইলমার প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলা প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বর্তমান সরকার নারীবান্ধব। সরকার ক্ষমতায় আসার পর নারীদের কল্যাণে যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা সারা বিশ্বে প্রশংসনীয় হয়েছে। খাসজমিতে নারীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের যথাযথ মহলে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘খাসজমি বণ্টন নীতিমালা অনেক পুরোনো। যার কারণে এখানে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত সম্ভব হয়নি। জেলা, উপজেলা খাসজমি বিতরণ কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত এবং প্রকৃত ভূমিহীন কৃষকেরা যেন খাসজমি পায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

অন্য বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রকৃত ভূমিহীনরা খাসজমি পাচ্ছে না। সেখানে নারীতো আরও বেশি অসহায়। স্থানীয় পর্যায়ে কিছু দালাল শ্রেণি সরকারি খাসজমিগুলো নামে বেনামে বন্দোবস্ত নিয়ে নিচ্ছে। বর্তমান সরকার প্রধান তৃণমূলের নারীদের ভাগ্য উন্নয়নে অনেক কিছু করতে কঠোর পরিশ্রম করলেও একশ্রেণির অসাধু সরকারি কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতাদের কারণে সরকারের সদিচ্ছা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা, উপজেলা পর্যায়ে অনেক কমিটি পুনর্গঠন করেছে যেখানে নারী প্রতিনিধিত্বের কথা পরিষ্কার করে বলা আছে। কিন্তু খাসজমি বণ্টন কমিটি পুনর্গঠন হয়নি এবং এটার গঠন প্রক্রিয়া এখনো অনেক পুরোনো ও অসংগতিপূর্ণ। যা দ্রুত পরির্বতন দরকার। খাসজমি বণ্টন কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব না থাকায় নারীর পক্ষে কথা বলার কেউ থাকছে না। যা খুবই দুঃখজনক।’