কুতুবদিয়া হত্যা, ডাকাতিসহ ১৩ মামলার আসামী রমিজ এবার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী!

প্রকাশ:| শনিবার, ২২ মার্চ , ২০১৪ সময় ০৯:৩৪ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কুতুবদিয়া থেকে
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবারে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন উপকূলের দূর্ধর্ষ জলদস্যু সম্্রাট, হত্যা,চুরি-ডাকাতি, পুলিশের উপর হামলাসহ ১৩মামলার আসামী রমিজ আহমদ ওরফে রমিজ্যা ডাকাত! এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। তিনি কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরং ইউনিয়নের মিয়ারা কাটা গ্রামের নজির আহমদের পুত্র। নির্বাচিত কমিশনের ঘোষিত তফশীল মতে চতুর্থ দফায় আজ রোববার ২৩ মার্চ রোববার অনুষ্টিত কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিউবওয়েল প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
জানা গেছে, এবারে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রমিজ আহমদ সাগরে ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি রোধসহ সমাজসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন এই মূল্যবান প্রতিশ্র“তি দিয়ে উপজেলার ৬ইউনিয়নের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট ভিক্ষা ও চেয়েছেন। অনেকই তাকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্র“তি ও দিয়েছেন। কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরং ইউনিয়নের কয়েকজন পুরুষ ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এলাকার সাধারান ভোটারদের নানা ধরণের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছেন জলদস্যু সম্রাট রমিজ ও তার লোকজন। এ ধরণের হুমকিতে তারা চরম আতংকে রয়েছেন বলে জানালেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘ দুই যুগ ধরে রমিজ আহমদ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দাগী অপরাধীদের নিয়ে ১০০/১৫০ জনের একদল জলদস্যু সিন্ডিকেট গঠন করে কুতুবদিয়ার আশেপাশে ও গভীর বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি, মাঝিমাল্লাদের হত্যা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়ে জেল ও খেটেছেন। সর্বশেষ গত বছরের ১০জানুয়ারী কুতুবদিয়া চ্যানেলের রাজাখালী লালজান পাড়া ব্রীজ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশ রমিজ ডাকাতকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছিল। এ নিয়ে পুলিশ পেকুয়া থানায় তার বিরুদ্ধে ২টি মামলা ও দায়ের করেছিল। কিছুদিন এ মামলায় জেল খাটলেও নির্বাচনের কয়েকমাস পূর্বে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান ওই দূর্ধর্ষ জলদস্যু সম্রাট রমিজ্যা।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দায়ের করা হলফনামায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রমিজ আহমদ উল্লেখ করেছেন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন চুরি, ডাকাতি, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে আদালতে ১৩টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে একটি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। তার হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৩টি মামলার মধ্যে কক্সবাজার যুগ্ন জেলা দায়রা জজ আদালতে এসটি ১৫৮/১২ মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। এছাড়াও বর্তমানে কুতুবদিয়া থানা, পেকুয়া থানা, কক্সবাজার জজ আদালত, চিফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত, চকরিয়া সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ও কুতুবদিয়া আদালতে সাগরে দস্যুতা, ডাকাতি, হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে ১২টি মামলা বিচারাধীণ রয়েছে।
হলফনামায় রমিজ আহমদ নিজেকে স্ব-শিক্ষিত উল্লেখ করেছেন। তার পেশা উল্লেখ করেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় উল্লেখ করেছেন, ১লাখ ১০হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ টাকাসহ ১লাখ ৪০হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও হলফনামায় তার কোন স্থাবর সম্পদ নেই বলে উল্লেখ করেছেন।