কুতুবদিয়া আদালত ভবনে ফাটল

প্রকাশ:| বুধবার, ৬ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ০৮:২০ অপরাহ্ণ

আতঙ্ককিত হয়ে পড়েছে বিচারপ্রার্থী,কৌশলীরা, বিচারক-কর্মচারীরা।

লিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া।

কুতুবদিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আদালত ভবন ফাটল দেখা দেয়ায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বিচারপ্রার্থী থেকে শুরু করে আদালতে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা। কয়েক বছর ধরে এ ভবনের ফাটল দেখা দেয়ায় সকলের মাঝে এ আতঙ্ক বিরাজ অব্যহত রয়েছে। সরকার ভবনটি বিগত দুই বছর পূর্বে পরিত্যক্ত ঘোষনা করলেও বিচারকার্য পরিচালনা জন্য অন্য কোন ভবন না থাকায় ঝুঁিক মাথায় নিয়ে এ ভবনে বিচারকার্য চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। কিন্তুু আইন মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে কোন ধরণের সু-দৃষ্টি না থাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে আদালত পাড়ায়।

কুতুবদিয়া আদালতের আইনজীবি আইযুব হোছাইন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আদালত ভবনের প্রত্যেক রুমে ফাটল দেখা দিয়েছে। গত ২০১০-১১ অর্থ বছরে (পাচ বছর) গণপূর্ত বিভাগের অধীনে আদালত ভবনটি মেরামত করা হয়। বিগত ২০১৩ সনের ২৮ ফেরুয়ারী রাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির আলহাজ দেলোয়ার হোছাইন সাইদীর রায়কে কেন্দ্র করে কিছু সংখ্যক দূবৃত্তকারীরা কুতুবদিয়ার আদালত ভবনে ব্যাপক ভাংচুর ও ইউএনও অফিস পুড়িয়ে দেয়। এরপর প্রতিবছর প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও ঘূর্নিঝড় এবং মৃদু ভূমিকম্পের আঘাতে দ্বীপের পুরনো ভবন গুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে কুতুবদিয়া জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ভবনের বিভিন্ন কক্ষে দেয়াল ফাটলের দৃশ্য দেখা যায়্। অতিশয় এ ভবন মেরামত ও ঘূর্নিদূর্গত এলাকা হিসেবে নথিপত্র সংরক্ষনের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রের মতো দ্বিতল ভবন নির্মানের দাবী জানান।

কুতুবদিয়া আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফিরোজ আহমদ বলেন, আদালত ভবনের এজলাস কক্ষ, খাস কামরা, ষ্টোনোগ্রাফার কক্ষ,সেরেস্তা কক্ষ,উকিল খানা, জিআরও কক্ষ, হাজত খানা, পুলিশের ব্যারাকসহ সব কক্ষের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। এ সব ফাটল দেখে রানা প্লাজার কথা মনে পড়ে যায়।

আদালতে বিচারপ্রার্থী নুরুল আবছার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ আদালত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মামলায় হাজিরা দিতে হয়। ভবনে ফাটল দেখা দেয়ায় সকল বিচারপ্রার্থী ও আসামীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, গেল, শতাব্দির ৮৫-৮৬ সনের দিকে প্রত্যেক উপজেলায় আদালত ভবন স্থাপন করা হলে এ সময় কুতুবদিয়া আদালত ভবনটি গণপূর্ত বিভাগের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। আদালত ভবন নির্মানের পর ১৯৯১,১৯৯৭,১৯৯৮, ২০০৯,২০১২,২০১৪সনের ৬টি ঘূর্নিঘড়ের আঘাতে বিভিন্ন ভবনসহ হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এ সব ঘর্ণিঝড়ের আঘাতে অধিকাংশ পূরনো ভবন নড়বড়ে হয়ে দূর্বল হয়ে পড়েছে।


আরোও সংবাদ