কুতুবদিয়ায় বিধবার জমি ও ভিটা দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ:| শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৮:০৪ অপরাহ্ণ

বিধবা মহিলার সম্মেলন

লিটন কুতুবী
কুতুবদিয়া

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এতিম ও অসহায় একটি পরিবারকে ভিটে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে বিভিন্নভাবে হয়রানী করার অভিযোগ তুলে গতকাল কুতুবদিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের পুড়ার পাড়া গ্রামের মৃত লেদু মিয়ার স্ত্রী বিধবা হাছিনা বেগম সংবাদ সম্মেলনে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি একজন সহজ সরল,শান্তি প্রিয় ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন অসহায় বিধবা মহিলা। আমার স্বামী লেদু মিয়া টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসার গত বছর মারা গেছেন। বর্তমানে তিন মেয়ে ও ২ছেলেকে নিয়ে আমার অভাবের সংসার কোন মতে চলছে। আমার বড় দুই মেয়ে কাউছার বেগম (২২) ও ইয়াছমিন আকতার (১৮) বিয়ে উপযুক্ত হয়েছে।

আমার অভাবের এই সংসারে স্বামীর মৃত্যুর পর তার বড়ভাই সিরাজুল মোস্তফা আমার প্রতি কোনধরনের সহমর্মীতা না দেখিয়ে আমার স্বামীর খরিদা ও পৈত্রিক .৮০ শতক জমি জবর দখল করে নেয়। তিনি আমাকে ভিটেবাড়ি ছাড়া করতে গত এক বছর ধরে নির্যাতন করে আসছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে একাধিকবার শালিস বিচার বসলেও সিরাজুল মোস্তফা তাদেরকে কোন ধরনের পাত্তা দেয়নি। তার প্রতিকার চেয়ে আমি গত বছর কুতুবদিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর ৫৬/১৪ মামলা দায়ের করি। এ মামলায় শালিসী বৈঠকে উপস্থিত থাকা স্থানীয় সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ হোছাইনসহ অন্যান গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনার বিষয়ে স্বাক্ষী দিতে আদালতে আসার পথে গত ১৫ ডিসেম্বর সকালে সিরাজুল মোস্তফাসহ ৭/৮জন দুর্বৃত্ত হোছাইন মেম্বারের ওপর অতর্র্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে তিনি (হোছাইন মেম্বার) বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এব্যাপারে হোছাইন মেম্বারের ছেলে ছৈয়দ নূর বাদী হয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর কুতুবদিয়া থানায় (০৪/তাং১৬/১২/১৫) মামলা রজু করেন। বর্তমানে সিরাজুল মোস্তফা তার দলবল নিয়ে আমার মামলার অন্যান্য স্বাক্ষীদের মারধর করাসহ আমাকেও ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে প্রাণে মেরে পেলার হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া সিরাজুল মোস্তফা আমি এবং আমার মামলার স্বাক্ষীদেরকে হয়রানী করতে থানায় একটি মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেছে। এমতাবস্থায় আমি একজন বিধবা আসহায় হিসেবে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আমার স্বামীর পৈত্রিক ভিটাকে আগলে ধরে বেঁচে থাকতে চাই। এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এস.আই শাহজাহান সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা শিকার করেন। বিধবা হাছিনা বেগম আর স্থানীয় কিছু লোকের বিরুদ্ধে সিরাজুল মোস্তফা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তা তদন্ত চলছে বলে জানান।