কুতুবদিয়ায় বাবুল হত্যার পরিকল্পনাকারী স্ত্রীসহ আটক-৪

প্রকাশ:| রবিবার, ২০ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:২৮ অপরাহ্ণ

স্ত্রীসহ আটক ৪

লিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া।
কুতুবদিয়ার বাবুল হত্যার একদিনের মাথায় আটক স্ত্রী রেখা আকতার ও রিক্সাচালক লেমশীখালী ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার মৃত মোঃ করিমের ছেলে আলতাফের ম্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যার মূল নায়ক (রেখা আকতারের পরকীয়া প্রেমিক) লেমশীখালী ইউনিয়নের নুরুল ইসলামের ছেলে ফরিদ আলম (৩৫) তার সহযোগী একই এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে গোলাম রহমান (৪০) কে আটক করে রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় কুতুবদিয়া জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শাহাব উদ্দিনের আদালতে হাজির করেন থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) উপ-পরিদর্শক(এস.আই) মোঃ শাহজাহান উক্ত ঘটনার অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষে আটক ৪ আসামীদের ৭ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করলে আদালত ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আটক আসামীরা হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে থানার ওসি অংসা থোয়াই জানান। তিনি আরো জানান,হত্যার ঘটনায় বাবুলের বড়ভাই বড়ঘোপ ইউনিয়নের মাতবরপাড়ার মৃত নুর আহমদের ছেলে মোঃ তাহের বাদি হয়ে কুতুবদিয়া থানায় মামলা রুজু করেন। (যার মামলা নং-৫ তাং ২০/১২/২০১৫ইং)।

রবিবার দুপুরে কক্সবাজার সদর সার্কেল (চকরিয়া) মোঃ মাসুদ আহমেদ হত্যা কান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যান। এদিকে নিহত বাবুলের পারিবারিক সূত্রে প্রকাশ, বাবুলের লাশ গতকাল রবিবার বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে বড়ঘোপ ইউনিয়নের মাতবরপাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে দাপন সম্পন্ন করেছে। গত (১৯ ডিসেম্বর) শনিবার ভোরে কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিন্দাপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে থেকে মোঃ বাবুলের হাত,পা,মুখ বাধাঁ অবস্থায় কুতুবদিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোঃ বাবুল কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের মাতবর পাড়ার মৃত নুর আহমদের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ গত শনিবার দুপুরে বাবুলের স্ত্রী রেখা আকতার ও রিক্সা চালক আলতাফ হোসেনকে আটক করে। নিহত বাবুল গত শুক্রবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে চিকিৎসার জন্য চকরিয়া জমজম হাসপাতালে ডাক্তার মাইন উদ্দিনের কাছে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ মার্মান্তিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়। গত তিন মাস পূর্বে বাবুলের সাথে উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের চুল্লারপাড়ার মনু মিয়ার একমাত্র মেয়ে রেখা আকতারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস স্ত্রী রেখার পরকীয়া প্রেমের বলি হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয় তাকে। রেখার আগের প্রেমিকের পরিকল্পনায় সুকৌশলে বাবুলকে হত্যা করে। বাবুলের স্ত্রী রেখার স্বীকাররোক্তি মোতাবেক, গত শুক্রবার সকালে বাবুল চিকিৎসার জন্য চকরিয়ায় গেলে সে (স্ত্রী) মোবাইলে বাবুলের যোগাযোগ করে চকরিয়ায় যায়। স্বামী স্ত্রী দুইজনই গত শুক্রবার রাত ৯টায় মগনামাঘাট হয়ে দরবারঘাটে আসেন। বিগত তিন বছর ধরে রেখা আকতারের সাথে লেমশীখালী এলাকার ফরিদ আলমের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এ সম্পর্কের কারনেই রেখা বিয়ের পিড়িতে বসতে পারছিল না। প্রেমিক ফরিদের ভয়ে বাবুলের বিয়ে অনুষ্ঠান রেখার বাপের বাড়িতে করতে পারেনি। বড়ঘোপ মগডেইল গ্রামের রেখার নানার বাড়ি থেকে বিবাহ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাবুলের সাথে বিয়ে দেয়া হয় তাকে। বিয়ের পরও রেখা ঐ বখাটের সাথে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছাড়তে পারেনি। যা বাবুলের ভাগ্যে করুণ পরিনতি ডেকে আনে।


আরোও সংবাদ