কুতুবদিয়ায় নৌকা-২, ধানের শীষ-১, স্বতন্ত্র-১

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২২ মার্চ , ২০১৬ সময় ১১:২৮ অপরাহ্ণ

আ’লীগ ২কুতুবদিয়ায় সংঘর্ষ, ভোট বর্জন-পুলিশের গুলিতে শেষ হল ইউপি নির্বাচন
এসকে লিটন কুতুবী ও মো:ফারুক- কুতুবদিয়া।
বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন আর পুলিশের গুলিতে শেষ হল কুতুবদিয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। তাতে ২৫জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হওয়ার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জনতা অন্তত শতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময় করেছে বলে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আহতদেরকে কুতুবদিয়া সরকারী হাসপাতাল ও চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে সকাল পৌনে ১১টার দিকে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফিরোজ খান চৌধুরী নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়ে পূন নির্বাচনের দাবী জানিয়েছেন। অন্যদিকে বড়ঘোপ ইউনিয়নে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের পর ধানের শীষের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবারক হোছাইন নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে ভোট শুরুর কিছুক্ষন পর থেকে দফা দফায় দুপুর ১টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটেছে।
কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অংসা থোয়াই জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বড়ঘোপ ইউনিয়নের মনুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ঘটনায় ৪ জন পুলিশ সদস্য সহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আহত পুলিশ সদস্যের নাম জানায়নি ও পুলিশের গুলিবিনিময়ের সত্যতা স্বীকার করেনি।
ভোটার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লেমশীখালী, বড়ঘোপ, আলী আকবর ডেইল, দক্ষিণ ধুরুং, উত্তর ধুরুং ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নে নৌকা আর ধানের শীষসহ ২৯জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করে। সকাল ৮টার দিকে ভোট গ্রহন শুরু হওয়ার পর বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এসময় সকাল সকাল ১১টার দিকে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে ৯ কেন্দ্রের মধ্যে পূর্ব আলী আকবর ডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, সন্দীপী পাড়া ইসহাক কিল¬া কেন্দ্র, কবি জসিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ, পূর্ব তাবালের চর রেড ক্রিসেন্ট সাইক্লোন সেন্টার, খুদিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, তাবালের চর খায়মুল মাদ্রাসা কেন্দ্র, ইফাদ সাইক্লোন সেন্টার কেন্দ্রে ভোট দখলের অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী ফিরোজ খান নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দেন। অন্যদিকে বড়ঘোপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও মোবারক হোসেন এর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিদ্বন্ধি দু’প্রার্থীর সমর্থকরা সংঘর্ষের এক পর্যায়ে গুলিবর্ষণ করে। পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এতে আহতের ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রে দীর্ঘক্ষণ ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকলেও পরে স্বাভাবিক করা হয়। দুপুর ১টার দিকে ধানের শীষ প্রার্থী মোবারক হোছেন সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষনা দেয়।
৬ ইউপিতে ভোট গ্রহণ শেষ হয়ে ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে। এরই মাঝে রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ৩৩০৮ভোট পেয়ে ছৈয়দ আহমদ বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী আলাউদ্দিন আল আজাদ আনারস মার্কা (স্বতন্ত্র) পেয়েছেন ৩০১২ভোট। লেমশীখালী ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আকতার হোছাইন ৫৫৫২ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী নৌকার প্রতীকের ছৈয়দ আহমদ কুতুবী পেয়েছেন ২৩৯৬ভোট। উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আ.স.ম শাহারিয়ায় (মটর সাইকেল) ৪৫১০ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ধ প্রার্থী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো: ইয়াহিয়া পেয়েছেন ২৬৩০ ভোট।
বড়ঘোপ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এ্যাড: ফরিদুল আলম ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোবারক হোসেনকে হারিয়ে বেসরকারী ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বীরমুক্তিযুদ্ধা নুরুছ ছাফা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফিরোজ খান চৌধুরীকে হারিয়ে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কৈয়ারবিল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজমগীর মাতবর ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জালাল আহমদ মধ্যে থেকে যে কেউ একজন নির্বাচিত হবেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য: ৬ ইউনিয়নে মোট ভোটার ৮১ হাজার ৯৭৬ জন। পুরুষ ভোটার ৪১ হাজার ৩০৩ এবং মহিলা ভোটার ৪০ হাজার ৬৭৩ জন ভোটার ভোট প্রয়োগ করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন।