কুতুবদিয়ার দেড় হাজার পরিবার পানি বন্দি

প্রকাশ:| রবিবার, ২৬ জুলাই , ২০১৫ সময় ১১:২২ অপরাহ্ণ

কুতুবদিয়ার দেড় হাজার পরিবার পানি বন্দিলিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া,কক্সবাজার :: গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে কুতুবদিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। এ প্লাবণে ক্ষতি হয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি ও শত শত মাছ চাষের পুকুর। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রতিটি এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামো। এতে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে নিশ্চিত করেন কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী। গতকাল রবিবার দুপুরে কুতুবদিয়ায় প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনী, দক্ষিণ অমজাখালী, লাল ফকির পাড়া, মিয়ার পড়া, মগডেইল, মুরালিয়া এলাকা সমূহ কোমর পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকায় অনেকের ঘর বাড়ি হাটু পানিতে ডুবে আছে আবার অনেকের ঘর-বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। না ঘুমিয়ে রাত যাপন করতে হচ্ছে জানিয়েছেন অনেকে। গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি আরো কয়েকদিন দীর্ঘ হলে বড়ঘোপ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কুতুবদিয়া মঙ্গাপিড়িত এলাকা খ্যাত উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের নয়াকাটা, চুল্লারপাড়া, কাইছারপাড়া,চরধুরুং,আকবরবলী পাড়াসহ প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের ফতেহ আলী সকদার পাড়া,কালুয়ার ডেইল,কাহারপাড়া, পশ্চিম তাবলরচর, আনিচের ডেইল, চৌধুরী পাড়া, বড়ঘোপ ইউনিয়নের মুরালিয়া, রুমাইপাড়া,আজম কলোনী, মিয়ারঘোনা, লেমশীখালী ইউনিয়নের সতরউদ্দিন, পেয়ারাকাটা, দক্ষিণ ধুরুং ই্উনিয়নের বাতিঘরপাড়া, আলী ফকির ডেইলসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের দু’শতাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এ সব এলাকার লোকজন বিভিন্ন পানি ও বায়ুবাহিত রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে সংকিত হয়ে পড়েছে। এদিকে পানিতে তলিয়ে যাওয়া গ্রামীণ অবকাঠামো রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা হওয়ায় চলাচলে দূর্ভোগ পোহাচ্ছে এসব এলাকার জনসাধারণ। তাছাড়া এসব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই তলিয়ে গেছে পানিতে। ফলে শ্রেণি কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত গঠেছে বলেন শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে। লেমশীখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু ইউছুপ জানান, বিদ্যালয়ের দু’টি শ্রেণি কক্ষ পানিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হওয়ায় শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে উত্তরণ বিদ্যানিকেতনও। আর ছাত্র/ছাত্রীদের বসতবাড়ি ও চলাচলের রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারছেনা। উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্র প্রায় একই। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কুতুবদিয়ার বাইরের অনেক কর্মকর্তা/কর্মচারী যথাময়ে কর্মস্থলে যোগদান করতে পারছেন না। যার ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে ঢিলেঢালাভাবে। উপজেলার ব্যাংকগুলোতে দেখা গেছে ম্যানেজার একাই সব কাজ সামাল দিচ্ছেন। অন্যান্য অনেক অফিসে আবার সারাদিনেও কোন কর্মচারীর দেখা মেলেনি। এদিকে কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম. নুরুল বশর চৌধূরী বলেন, সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নিজ নিজ প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেক নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মমিনুর রশিদ প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানান। দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আযাদ জানান, তার ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাসমূহ পরিদর্শনসহকারে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে নিজের তহবিল থেকে যথাসাধ্য আর্থিক সাহায্য সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। তবে প্লাবিত এলাকার জনসাধারণ অভিযোগ করে বলেছে, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যনরা পানি উন্নয়ন বোর্ড এর আওতাধীন স্লইচ গেইট এলাকার খালগুলো মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ইজারা দেয়ায় কিছু সংখ্যক কুচক্রিমহল ইজারা নিয়ে সেখানে জাল বসিয়ে মাছ ধরার কারণে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। প্লাবিত এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য এলাকার কালভার্ট, পুল ও স্লইচ গেইট সমূহ প্রতিবন্ধকতা মুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকার সচেতন মহল। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজ গত অর্থ বছরে স্থানীয় সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকের প্রচেষ্টায় কুতুবদিয়া রক্ষা বেঁড়িবাধের সংস্কার হওয়ায় পূর্ণিমা বা অমাবশ্যায় জোয়ারে পূর্বেরমত সাগরের নোনা পানি ডুকে কুতুবদিয়া প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা কমেছে।


আরোও সংবাদ