কিছু শ্রমিক নেতা বিদেশের স্বার্থে কাজ করছে

প্রকাশ:| সোমবার, ১ মে , ২০১৭ সময় ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

দেশের শিল্পকারখানাগুলোকে অস্থিতিশীল করতে কিছু শ্রমিক নেতা বিদেশের স্বার্থে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মে দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক পরিচয়ের ‘শ্রমিক নেতাদের’ আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “কিছু কিছু শ্রমিক নেতা জুটে যান.. তারা যে কোথাকার শ্রমিক, তা আমি জানি না। তারা নেতা সাজেন।

“একটা শ্রেণি আছে, তাদের কাজই হচ্ছে.. দেশে খবর নাই, বিদেশে মেসেজ পাঠাতে থাকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। তাদের লাভটা কী? তারা কি ভাড়া খাটেন?”

এই শ্রমিক নেতারা কোনো বিদেশি সংস্থার হয়ে কাজ করছেন কি না, সন্দেহ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নইলে, দেশে কী ঘটনা ঘটল.. দেশে বসে সমাধান না করে মুরুব্বি খুঁজতে যান পরদেশে।”

কারও উসকানিতে শিল্প বন্ধ হয়ে গেলে তার পরিণতি ভাবার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

“এদের উসকানিতে কেউ যদি কোনো কিছু করে, নিজেরা চাকরি হারালে, তখন কি তারা খাবার দিতে আসে? বিপদে পড়লে কোনো সাহায্য দেয়? আহত হলে চিকিৎসার সাহায্য করে,” প্রশ্ন রাখেন শেখ হাসিনা।

এই শ্রমিক নেতাদের স্বার্থটা কী- সেই প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এটা খুঁজে পাই না।”

তিনি বলেন, “যারা কথায় কথায় বিদেশের কাছে নালিশ করতে যান.. তারা তো নিজের দেশের ক্ষতি করে, শ্রমিকদের ক্ষতি করে, মানুষের ক্ষতি করে, মালিকের ক্ষতি করে, ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি করে; এটা তারা কেন উপলব্ধি করে না; সেটা আমি বুঝতে পারি না।”

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবেন; বাংলাদেশ তবেই এগিয়ে যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই।”

প্রধানমন্ত্রী তার ওপর শ্রমিকদের ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এইটুকু ভরসা রাখবেন; আমার রাজনীতি আপনাদের জন্য .. বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের জন্য.. আমি আছি আপনাদের সাথে।”
শ্রমিকদের সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যার মাধ্যমে আপনার জীবন জীবিকা নির্বাহ হয়, সেটা যেন সচল থাকে.. সেটা সচল থাকার দ্বায়িত্ব আপনাদের।”

শ্রমিকদের ‘ভালো-মন্দ’ দেখতে মালিকদেরও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

“আপনাদের যারা শ্রম দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি চালিয়ে রাখছে, অর্থ উপার্জনের পথ করে দিচ্ছে; তাদের ভালো-মন্দ, কর্মপরিবেশ উন্নত করা, নিরাপত্তা দেখা, তাদের জীবনকে স্বচ্ছল করা- এটা আপনাদের দ্বায়িত্ব। অবশ্যই আপনারা সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন।”

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুন্নুজান সুফিয়ান, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি সালাউদ্দিন কাশেম খান, বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, বাংলাদেশের আইএলওর পরিচালক শ্রীনিবাস রেড্ডি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার।