কিছু কিছু যুদ্ধে কেউ জেতে না, জেতেনি কোন কালে

প্রকাশ:| রবিবার, ১ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:২৭ অপরাহ্ণ

মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ আর ধর্মান্ধদের উত্থান আজ পুরো বিশ্বজুড়ে। এর টার্গেট হচ্ছেন সমাজের এগিয়ে থাকা শিল্প সাহিত্য আর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা। গতকাল, বাংলাদেশের প্রকাশক ও ব্লগারদের উপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদে সোচ্চার দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশের প্রখ্যাত কবি, লেখক, নাট্যব্যক্তিত্ব, নির্মাতাসহ অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও। সবার কথায় আর প্রতিবাদে একটি পরমতসহিষ্ণু দেশের কথাই উঠে আসছে।

ফেসবুকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘কিছু কিছু যুদ্ধে কেউ জেতে না, জেতেনি কোন কালে। ধর্মও জেতে না, জাতীয়তাবাদও জেতে না। কেবল মানবিকতা হেরে যায়, মানুষ রক্তে ভেসে যায়! তবু যুদ্ধের ডুগডুগিওয়ালারা দুই শিবির থেকে লাউড স্পিকারে জোরে জোরে বলতে থাকে, ‘আগাও, আগাতে থাকো। ইস্পাত কঠিন মন নিয়ে শত্রু নিধন করতে থাকো। শারিরীক বা দার্শনিক যে যে ভাবে পারো খতম করো! আর সামান্য দূরেই বিজয়। তারপরের পৃথিবীটা অনেক সুন্দর হবে। সেখানে থাকবেনা কোনো ‘বোকা ধর্মান্ধ’ অথবা ‘ধর্ম বিরোধী’!

ভারতীয় নির্মাতারা সাম্প্রদায়িক নীতির প্রতিবাদে জাতীয় পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন… 

অন্যদিকে সামপ্রদায়িক এমন হামলার শিকার শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং পাশের দেশ ভারতেও এমন সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার সেদেশের প্রগতিশীল মানুষ। গো-মাংসকে কেন্দ্র করে চলছে তুলকালাম কান্ড। সাধারণ জনগনের পাশাপাশি হারমেশাই আক্রান্ত হচ্ছে সে দেশের বিনোদন জগতের তারকারাও। বলিউডের অন্যতম অভিনেতা ঋষি কাপুরতো সরাসরি সে দেশের সরকারের চাপিয়ে দেয়া সাম্প্রদায়িক নীতির প্রতি এক ধরণের ধৃষ্টতাই দেখান। তিনি সরাসরি বলে দেন, তার সাথে এমনটা চলবে না। তার যখন গরুর মাংস খাওয়ার ইচ্ছে হয়, তিনি খাবেনই। এতে সরকারের হস্তক্ষেপকে তিনি মেনে নিবেন না। এছাড়াও্ ভারতীয় সরকারের চাপিয়ে দেয়া সাম্প্রদায়িক আইন চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে সব জায়গায়, ভারতের ঘরে বাইরে। ভারতের সাম্প্রদায়িক নীতির প্রতি অসম্মতি জানিয়েছে সে দেশেরই সচেতন নাগরিকরাও। কবি, লেখক, বিজ্ঞানী আর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে উঠছে ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে যুথবদ্ধতার বলয়। এরইমধ্যে ভারতের ৪১ জন লেখক কবি ও সিনেমা নির্মাতার একটি দল তাদের জাতীয় পুরস্কারটি সরকারের কাছে ফিরত দিয়েছেন। শিল্পী সমাজ ফুঁসে উঠছেন রাষ্ট্রীয় এমন নগ্ন আইনের প্রতিবাদে। এরমধ্যে বাক স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার প্রতি প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের অন্তত ১২ জন নির্মাতা তাদের জাতীয় পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন। এরমধ্যে আছেন মেধাবী নির্মাতা দিবাকর ব্যানার্জি, আনন্দ পাতারধন, পরেশ কমদর, নিশথা জেইন, কির্তি নখ্য, হর্ষবর্ধন কুলকার্নি, হরি নয়্যার, রাকেশ শর্মা, ইন্দ্রনীল লাহিরি এবং লিপিকা সিং ডরাই।

এছাড়াও ভারতের আঞ্চলিক সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি কিংবা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নির্মাতা ও শিল্পীদের মধ্যেও সাম্প্রদায়িক নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে। তাইতো কলকাতার প্রখ্যাত গায়ক কবির সুমনও বলে উঠেন, ‘প্রকাশ্যে গরুর মাংস খেয়ে হিন্দুত্ববাদীদের গোমাংসকেন্দ্রিক নানান হারামিপনার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন কয়েকজন সহনাগরিক। অমনি একদল চেঁচাতে শুরু করে-এবারে প্রকাশ্যে শুয়োরের মাংস খাওয়া হোক। যেন, কেন্দ্রের শাসকদল ও হিন্দুত্ববাদীরা শুয়োরের মাংস খাওয়া চলবে না রব তুলেছেন, যেন শুয়োরের মাংস খাওয়ার গুজবে হিন্দুত্ববাদীরা খুন করেছে দু’জনকে। এই হলো ভারতের নাগরিক হওয়ার আনন্দ। এই অনাবিল ভারতীয়ত্ব। আনন্দর আর এক বহিঃপ্রকাশ এই ছবির বিষয়বস্তু। সকলে আনন্দ করুন। শুভ ভারতীয় নভেম্বর। মুখগুলো দেখুন। আনন্দ করুন।’


আরোও সংবাদ