কাস্টম হাউজের ‘বদি আলম’ বা ‘ফালতু’ চক্রের সদস্যসংখ্যা ৬০ থেকে ৭০

প্রকাশ:| সোমবার, ১৪ জুলাই , ২০১৪ সময় ০৬:১৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম কাস্টমসমহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টম হাউজে আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ায় অটোমেশন : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার মনজুর-ই-খোদা।

এ সময় টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. এম হাফিজউদ্দিন খান, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কাস্টম হাউজের ‘বদি আলম’ বা ‘ফালতু’ চক্রের সদস্যসংখ্যা ৬০ থেকে ৭০। এরা কাস্টম হাউজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে অবৈধভাবে নিজস্ব নিয়োগে কর্মরত। শুল্কায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সাথে অবৈধ লেনদেনের সমঝোতা করাই তাদের মূল কাজ।

তিনি জানান, ২০০৭ সালে এই দালাল চক্রকে কাস্টম হাউজ থেকে বের করে দেয়া হলেও, পরবর্তীতে আবারো এদের পুনর্বহাল করা হয়।

যেসব কর্মকর্ত-কর্মচারীর সহায়তায় দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বন্দর হতে পণ্য খালাসে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে কিছু প্রশাসনিক ধাপ পার হতে হয়। এই পণ্য ছাড় প্রক্রিয়ায় সাধারণত এলসিএল পণ্যের জন্য ১৬টি ও এফসিএল এবং অন-চেসিস ডেলিভারির ক্ষেত্রে কমপেক্ষ ১৯টি ধাপ পার হতে হয়।

কোনো ব্যবসায়ীর কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও এই ধাপগুলো পার হওয়ার জন্য ‘বদি আলম বা ফালতুদের’ বিশাল অংকের ঘুষ দিতে হয়। এরমধ্যে প্রতিটি এফসিএল বা এলসিএল কনসাইনমেন্টের পণ্য ছাড়ের জন্য ন্যুনতম ৮০০ টাকা ও অন-চেসিসের ক্ষেত্রে ন্যুনতম ১২০০ টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন হয়।

কাস্টমস হাউজে কোনো পণ্য শুল্কায়নে ন্যুনতম ১১টি ধাপ ও পণ্য ছাড় প্রক্রিয়ায় ১৬টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রতিদিন গড়ে এলসিএলের এক হাজার ৭শ’ কন্টেইনার খালাস হয়। যাতে ন্যুনতম ৮০০ টাকা করে ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর অন-চেসিসের জন্য এক হাজার ২০০ টাকা করে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার অবৈধ লেনদেন হয়।

অন্যদিকে বন্দরে পণ্য ছাড়ে এলসিএলে ১৭টি ও চেসিসের ক্ষেত্রে ন্যুনতম ১৯টি ধাপ পার হতে হয়। এই ধাপগুলো পার হতে আমদানি-রফতানি পর্যায়ে পণ্যভেদে আলাদা আলাদা ঘুষ দিতে হয় ‘বদি আলমদের’। এ খাতে প্রতিদিন গড়ে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার অবৈধ লেনদেন হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টম হাউজে অটোমেশন পদ্ধতি চালু হওয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে অটোমেশন পদ্ধতি পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন না হওয়ায় পণ্যের শুল্কায়ন, আমদানি পণ্য ছাড় এবং রফতানি পণ্য জাহাজীকরণে অবৈধ লেনদেন বন্ধ হচ্ছে না।

সূত্র: বাসসf