কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৩ জুন , ২০১৬ সময় ০৯:০৪ অপরাহ্ণ

জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) সাদা করার যে সুযোগ সরকার দিয়ে আসছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেট দেওয়ার পরদিন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার নিজে থেকেই বলা উচিত ছিল।”

১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত করের সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ হারে জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে।

ওই আইনের দিকে ইঙ্গিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “নিয়মিত আইন হল যে, কোনো কারণে আমি যদি হঠাৎ দেখি আমার স্টেটমেন্টটি ঠিকমত হয়নি, তখন আমি আমার স্টেটমেন্ট রিভাইজ করতে পারি। রিভাইজ করে সাবমিট করলে নিয়মিত আইনেই সেটা সাবমিট করি। অবশ্যই এর জন্য একটা ফাইন দিতে হয়। সেই আইনটাই বজায় আছে। এটা ভবিষ্যতেও থাকবে।

“সুতরাং বারবার কালো টাকা নিয়ে আমি চুপ আছি, এটা বলার মানেই হয় না। আমি গতবারও বলেছি, এখনও বলছি। এই আইন এই সরকার যতদিন আছে, ততদিন বলবৎ থাকবে। ”

অবশ্য ২০১৪ সালের বাজেটোত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে মুহিত বলেছিলেন, আগের বছর (২০১৩-১৪) তিনটি খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে সরকার মাত্র ৩৪ কোটি টাকা ট্যাক্স পেয়েছে।যেহেতু ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না, সেহেতু ওই সুযোগ তিনি আর দিতে চান না।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে কি না, থাকলে কীভাবে থাকছে, সে বিষয়টি প্রতিবারই বাজেটের আগে ঘুরে ফিরে আসে।

এবারও এক প্রাক বাজেট আলোচনায় সরকারকে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে আনার কৌশল খোঁজার পরামর্শ দিয়েছিল বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে ৯ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকার অপ্রদর্শিত ও অবৈধ আয় বৈধ করা হয়। অর্থাৎ, ওই অর্থের হিসাব সে সময় দেশের অর্থনীতির মূল ধারায় যুক্ত হয়।

এরপর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময়ে ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত পাঁচ বছরে সাদা হয়েছে ২ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। আর সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ৬৭৬ কোটি টাকার অপ্রদর্শিত টাকা বৈধ হয়েছে বলে এনবিআরের তথ্য।


আরোও সংবাদ