কালের সাক্ষী

mirza imtiaz প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৮ সময় ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের শত বছরের মৌলভি বাড়ি ঈদগাহ ও বটগাছ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে সংস্কারের অভাবে দিনে-দিনে হারিয়ে যেতে বসেছে ওই পুরোনো ঈদগাহ ও বটগাছটি। এ দুটিকে ঘিরে এলাকার মানুষের মনে রয়েছে শত বছরের স্মৃতি। এক সময় কয়েক ইউনিয়নের হাজার-হাজার মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসত এ ঈদগাহে। দেখা গেছে, বটগাছটি পুরো ঈদগাহ জুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে তার বিশাল-বিশাল শাখা-প্রশাখাসহ। বড়-বড় শেকড়-বাকড়ে ছেয়ে গেছে পুরো মাঠ।

এ চিরতরুণ চিরসতেজ বটগাছ ও ঈদগাহ ঘিরে বয়স্কদের মধ্যে রয়েছে স্মৃতিকাতরতা। বর্তমানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ওই বৃক্ষ ওই মাঠ ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাবার পথে। এ দুই কালের সাক্ষীকে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি উঠেছে সচেতনমহলে। অতীতে এলাকাবাসী ঈদগাহটির সংস্কার করে নামাজ আদায়ে সচেষ্ট থাকলেও বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় পৃথক-পৃথক ঈদ জামাতের রেওয়াজ চালু হওয়ায় কোনোদিন হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে এ ঈদগাহের ব্যবহার। এ অবস’ায় নতুন প্রজন্মের দাবি, শত বছরের স্মৃতি বিজড়িত ঈদগাহ ও বটগাছ যাতে কালের আঘাতে বিলুপ্ত হয়ে না যায়, সে জন্য দ্রুত মাঠটি সংস্কার করা হোক। এতে করে কয়েক গ্রামের মানুষের একসাথে মিলিত হবার আর সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।স’ানীয় বাসিন্দা জবির আহমদ (৬৫) বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকেই দেখে আসছি এ ঈদগাহ ও বটগাছটি। তিনি স’ানীয়দের শত বছরের সাক্ষী এ দুটি নিদর্শন সংরক্ষণে উদ্যোগী হবার আহ্বান জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজ্জাদ খান সুমন বলেন, কয়েক শত বছরের পরোনো এ ঈদগাহ। এখানে আমরা কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ একসাথে ঈদের নামাজ আদায় করতাম। দূর-দূরান্ত থেকে আসা বন্ধু, আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হতো। এখন তা স্মৃতি হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে কেইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হলে কর্তৃপক্ষ তাদের সীমান্তে তারকাঁটার বেড়া দেয়। কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ তখন আমাদের বলেছিল তাদের অর্থায়নে ঈদগাহটি সংস্কার করে দেয়া হবে। কিন’ এখনো পর্যন্ত তারা সে বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।>>সুমন শাহ্