কাপড়-স্বর্ণালংকার নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনের কাছে, নিয়ে গেল ডাকাতরা

প্রকাশ:| বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:২৯ অপরাহ্ণ

৫ ডাকাতএকটি ব্রিফকেইচ ও দুইটি করে ব্যাগ ও লাগেজ। সেগুলো ভরা পরিবারের সবার জন্য আনা কাপড়, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্রে। সৌদি আরব থেকে ফিরেই সেসব নিয়ে খুশি মনে ফিরছিলেন গ্রামের বাড়ি চকরিয়ার খুটাখালীতে। আত্মীয়স্বজনরা যে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু না। প্রতিমধ্যেই ডাকাতদল অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সব নিয়ে যার তার। ঘটনাটি ঘটে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ওইদিন (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বশিরুল হক। তারপর মাইক্রোবাসযোগে রওয়ানা হোন চকরিয়ার উদ্দেশ্যে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বশিরুলকে বহনকারী গাড়িটি পটিয়ার মোজাফফরবাদ এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে ডাকাতদলের সাদা রঙের আরেকটি মাইক্রোবাসটিকে গতিরোধ করে। পরে ভয় দেখিয়ে মাইক্রোবাসটিকে বোয়ালখালী থানার শাকপুরা নুরুল হক ডিগ্রি কলেজের সামনে নিয়ে যায়। এরপর ৫ থেকে ৬ জন ডাকাত অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং বশিরুল ও চালককে মারধর করে একটি ব্রিফকেইচ, দুইটি করে লাগেজ ও ব্যাগ, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকাসহ সবমিলিয়ে পাঁচ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল জোরপূর্বক নিয়ে যায়।

এরপর বশিরুলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এ কে এম এমরানের নেতৃত্বে নগরী ও বোয়ালখালী উপজেলায় মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ পাঁচ ডাকাতকে গ্রেফতার করে। এসময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়।

এই পাঁচ ডাকাত হলো, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানার নূর উদ্দিন, কক্সবাজারের উখিয়া থানার মো. হেলাল, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মো. শুক্কুর, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার শেখ কামরুল হাসান এবং পাঁচলাইশ থানার কাতালগঞ্জ এলাকার মো. ছাদেক।

বুধবার বিকেল তিনটায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকাত ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়।

আটক ডাকাতদের কাছ থেকে একটি দেশিয় তৈরি অস্ত্র, দুই রাউন্ডগুলি উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এ কে এম এমরান বাংলানিউজকে বলেন, গ্রেফতার হওয়া ডাকতসহ অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে বোয়ালখানী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।