কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি

প্রকাশ:| রবিবার, ২৭ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ০৭:৪৬ অপরাহ্ণ

আঞ্চলিক অফিস,নিউজচিটাগাং২৪.কম:times-fish-3 মৎস্য প্রজনন বৃদ্ধি, মা মাছ রক্ষাসহ বিভিন্ন কারনে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে আগামী ১লা মে মধ্যরাত থেকে সব ধরনের মাছ শিকার, বিক্রি ও পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক বৈঠকে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের আলোকে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল এ নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্তএ নিষেধাজ্ঞা ৩মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

রোববার রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল করিম, বিএফডিসি রাঙ্গামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মাইনুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি সেনা জোনের প্রতিনিধি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম)মোঃ হাবিবুর রহমান, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা রহমান শম্পা সহ মৎস্য ব্যবসায়ী, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, কাপ্তাই হ্রদের মাছের উপর নির্ভর করে বছরে শতকোটি টাকার ব্যবসা হয়। এতে করে সরকার নামমাত্র রাজস্ব পেলেও বেশীরভাগ লাভবান হয় সাধারন মৎস্যব্যবসায়ীরা। তাই কাপ্তাই লেকে মৎস্য প্রজনন নিশ্চিত করতে এর সাথে জড়িত মৎস্য ব্যবসায়ীদের লেকে বন্ধকালীন আগামী ৩মাস কাপ্তাই হ্রদে যাতে মাছ শিকার করা না হয় সেজন্য তিনি সকল মৎস্য ব্যবসায়ীকে আন্তরিক হওয়ার আহবান জানান। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, কাপ্তাই হ্রদে রুলকার্ভ অনুসারে ৮২.৮ ফুট পানি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৭৮.৪ফুট। যা পরিমানের চেয়ে প্রায় ৪.৪ফুট কম। এ অবস্থায় অব্যাহতভাবে হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এখন মাছ শিকার বন্ধ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিএফডিসির রাঙ্গামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মাইনুল ইসলাম বলেন, প্রজনন মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের অভয়াশ্রমগুলোতে যাতে মাছ শিকার বন্ধ থাকে সেজন্য এবার কাপ্তাই হ্রদে ২৪ঘন্টা কোষ্টগার্ড পাহাড়ায় থাকবে। পাশাপাশি চোরাইপথে যাতে কাপ্তাই লেকের মাছ বাইরে পাচার করা না যায় সেজন্য বিএফডিসির পক্ষ থেকে মনিটরিং টিম রাস্তায় টহলে থাকবে বলে জানান বিএফডিসি ব্যবস্থাপক।

রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হাবিবুর রহমান বলেন, কাপ্তাই হ্রদের ৩মাস মাছ শিকার বন্ধকালীন সময় চোরকারবারীরা যাতে অবৈধভাবে মাছ পাচার করতে না পারে সেজন্য পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতা অব্যাহত রাখা হবে।

সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানি যে হারে কমে যাচ্ছে তাতে যদি আর এক সপ্তাহ সময় পায় জেলেরা হদের সকল মা মাছ শিকার করে ফেলবে। তারা বলেন, ইতিমধ্যে মা মাছ যেখান ডিম ছাড়বে সে সব এলাকাকে চিহ্নিত করে অভয়আশ্রম ঘোষনা করা হয়েছে। এই অভয়াশ্রমে সার্বক্ষণিক তদারকি জন্য লোক নিয়োগ করা থাকবে। বক্তারা বলেন মা মাছ নিরাপদে যদি ডিম ছাড়তে পারে তাহলে কাপ্তাই হ্রদের মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারও রাজস্ব আদায় করতে পারবে।
উল্লেখ্য যে, কাপ্তাই হ্রদে মাছ উৎপাদন ও বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)।

হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন প্রতিবছর মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মাছ শিকার, বিপণন ও পরিবহন বন্ধ রাখে। প্রতিবছর বিএফডিসি এ সময় হ্রদে ৩০ থেকে ৩৫ মেট্রিক টন কার্পজাতীয় মাছের পোনা ছাড়ে। গতবছর বিএফডিসি থেকে ৮কোটি টাকা রাজস্ব সরকারী কোষাগাড়ে জমা দেয়া হয়েছে বলে বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে কাপ্তাই হ্রদে ৩মাস মাছ মারা বন্ধকালীন সময়ে জেলেদের কর্মসংস্থানের বিকল্প হিসেবে প্রতিবছরের মতো এবারো ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে জনপ্রতি ২০কেজি চাউলের পরিমান বাড়িয়ে এবার ৩০-৪০ কেজি করে দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল।
তাজ/