কাপাসিয়ায় সাংবাদিকের হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

প্রকাশ:| সোমবার, ৩ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:১৭ অপরাহ্ণ

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার কাপাসিয়া সংবাদদাতা মোঃ আবু সাঈদ কে (৩৮) ২ আগষ্ট রোববার গভীর রাতে ঘুম থেকে ডেকে তুলে গাছের খন্ডের সাথে বেঁধে বড় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হাত-পা গুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা তাঁর বয়োবৃদ্ধ পিতা-মাতা ও কাজের ছেলেকে বেঁধে, মারপিট ও কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে।
কাপাসিয়ায় সাংবাদিকের হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা
পাশাপাশি সাংবাদিক সাঈদের ২টি বসত ঘর সহ ৪ টি ঘর ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে এবং ব্যাপক লুটপাট করে। গুরুতর আহত অবস্থায় সাঈদ ও কাজের ছেলে ইব্রাহিম কে (২৮) সোমবার ভোরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীল মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনিসুর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ আহসান উল্লাহ্ ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানাযায়, রোববার রাত ২টার দিকে ১৫/২০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল মধ্যযুগিয় কায়দায় তরগাঁও ইউনিয়নের মৈশন গ্রামের বাসিন্দা ও সাংবাদিক আবু সাঈদের বাড়িতে একই গ্রামের রুস্তম আলীর দুই সন্ত্রাসীপুত্র সফুল মিয়া (৪০) ও সাফার নেতৃত্বে হামলা চালায়। প্রথমে তারা আবু সাঈদকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে মাটিতে শুইয়ে গাছের খন্ডের সাথে প্লাষ্টিকের রশি দিয়ে বেঁধে বড় হ্যামার দিয়ে পিটিয়ে হাত-ভেঙ্গে ফেলে এবং চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা সাঈদের বৃদ্ধ পিতা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক কুয়ত আলী মাষ্টার (৮২), বৃদ্ধা মাতা সালেহা খাতুন (৭০) এবং কাজের ছেলে ইব্রাহীমকে পিছমোড়া করে বেঁধে মারপিট করে ও কোপায়। এতে সালেহা খাতুনের হাতের আঙ্গুল কেটে যায়। সন্ত্রাসীরা শাবল দিয়ে ইব্রাহিমের কানের ছিদ্রে আঘাত করে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপায়।

পরে সন্ত্রাসী দল সাঈদের ২টি টিনের বসত ঘর, রান্না ঘর ও গোয়াল ঘরে হামলা চালায় এবং হ্যামার, দা, শাবল, চাপাতি দিয়ে খুটি ভেঙ্গে টিনের বেড়া ও চালা কুপিয়ে টুকরো টুকরো করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা ঘরের ভিতরের সকল জিনিসপত্র ব্যাপক ভাবে ভাংচুর ও তছনছ করে এবং মালমাল বাইরে ফেলে দেয়।

সন্ত্রাসীরা ট্রাংকের তালা ভেঙ্গে জমির কাগজ পত্র ও সার্টিফিকেট এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন, স্বর্নালংকারসহ মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার মালমাল লুট করে নিয়ে যায়।

এলাকার আবদুল আউয়াল নামে এক প্রবীণ ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান, তাদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল তবে ৪০ বছর যাবত মাষ্টার সাহেব এ জমিতে বসবাস করছেন। কিন্তু সফুল গং তাদের পক্ষে জমির কোন সঠিক কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি। বিকালে

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত সাংবাদিক সাঈদের ছোট ভাই আক্রাম হোসেন জানান, মামলা লিখার প্রস্তুতি চলছে।

কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্লাহ জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কাপাসিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দ ও কর্মরত বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকরা আবু সাঈদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।