কাতারে শ্রমিকবান্ধব আইন পাস

প্রকাশ:| বুধবার, ২৮ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১১:০৯ অপরাহ্ণ

নতুন শ্রম আইন করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। অভিবাসী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এ শ্রম আইন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান ডিএলএ পাইপারের দেয়া সুপারিশ অনুসারে দেশটি এ সংশোধনী এনেছে বলে জানা গিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানী এই আইন জারি করেন। প্রস্থান এবং রেসিডেন্স নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৯/৪ সংশোধন করে ২০১৫/২১ জারি করা হয়েছে। নতুন এই আইনে কাফালা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে স্পন্সর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে এই আইন কার্যকর হতে আরও এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। গতকাল থেকে এক বৎসর পর থেকে এই আইন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কাতারের শ্রম মন্ত্রণালয়।

পূর্ববর্তী আইনে একজন প্রবাসীকে দেশ (কাতার) ত্যাগের জন্য কফিলের (পৃষ্ঠপোষক) অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হতো, তবে এখন আর কফিলের অনুমতির প্রয়োজন নেই। কোনো প্রবাসী দেশ ত্যাগ করতে চাইলে দেশ ত্যাগের কমপক্ষে তিন দিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যাচাই বাছাই করে দেশ ত্যাগের অনুমতিপত্র দেবে।

কোনো শ্রমিক চাইলে কোম্পানি/স্পন্সরের সাথে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সে এনওসি (অনাপত্তিপত্র) নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Moi) ও শ্রম ও সামাজিক অ্যাফেয়ারের (MOLSA) অনুমোদনক্রমে সে তার পেশা পরিবর্তন করতে পারবে। এর জন্য তাকে দেশ ত্যাগ করতে হবে না। পূর্ববর্তী আইনে কোনো প্রবাসী তার পেশা পরিবর্তন করতে চাইলে রেসিডেন্স পারমিট ক্যানসেল করে দেশে চলে যেতে হতো এবং পুনরায় কাতার আসতে চাইলে কমপক্ষে দুই বছর অপেক্ষা করতে হতো।

তবে নতুন পাস হওয়া আইনে গৃহকর্মী ও গৃহ ড্রাইভারদের জন্য আপাতত কোনো সুখবর নেই বলে জানিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়।

কাতারের সাফারি মলে কর্মরত লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ফরিদ মিয়াজি বলেন, ‘কাতারে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছে যাদের ভালো ভালো জায়গায় কাজ করার যোগ্যতা থাকলেও পূর্ববর্তী আইনের কারণে পেশা পরিবর্তন করতে পারছিল না। এতে করে তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছিল না। আমরা প্রবাসীরা নতুন শ্রম আইনকে স্বাগত জানাই সেই সাথে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানীকে জানাই ধন্যবাদ।’