কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হল দখলের চেষ্টায় ছাত্রলীগ, নিরাপত্তাহীন ছাত্রীরা

প্রকাশ:| বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীহল (দোলনচাঁপা হল) দখলের অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগ।

গত সোম ও মঙ্গলবার ছাত্রলীগ জোর করে হল দখলের চেষ্টা করায় হলের ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাধারণ ছাত্রীরা। কেউ হল থেকে বাইরে আসছে না।

গত সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকজন নেত্রীসহ ছাত্রীদের থাকার একমাত্র হল দোলনচাঁপার বাউন্ডারি টপকে দখলের জন্য কয়েকটি রুমে তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় হলে থাকা সাধারণ ছাত্রীরা বাকি রুমগুলোতে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেয়।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দোলনচাঁপা হলে পৌঁছলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হল ছেড়ে চলে যায়। পরে কর্তৃপক্ষ বন্ধ থাকা কয়েকটি রুমের তালা ভেঙে ফেলে।

মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতারা নেত্রীদের নিয়ে দ্বিতীয় দফায় দোলনচাঁপা হলের গেট ভেঙে দখলের চেষ্টা করে। তারা হলের ভেতরে অবস্থান নিলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ ছাত্রীদের মধ্যে। তারা ফের ভেতর থেকে রুমগুলো বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান নেয়। দ্বিতীয় দফাতেও ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায় ছাত্রলীগ নেতারা।

দোলনচাঁপা হলের ভিতর অবস্থান করা ছাত্রীরা জানান, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এবং দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্রীরা দোলন চাঁপা হলে সিট বরাদ্দ পেয়ে বিশ্ব বিদ্যালয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু হঠাৎ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জোর করে অন্যায় ভাবে আমাদের হল দখলের চেষ্টা করছে। বেআইনী ভাবে ছাত্রলীগের কিছু নেত্রীকে জোর করে হলে ঢুকানোর চেষ্টা করছে।

ছাত্রীরা জানায়, গত ৩ দিন ধরে ছাত্রলীগের হল দখলের অব্যাহত চেষ্টার ফলে আমরা সাধারণ ছাত্রীরা এখন হলে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

দোলন চাপা হলের হল সুপার নাসরিন আক্তার খানম বাংলামেইলকে জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সোমবার ও মঙ্গলবার দোলনচাঁপা হলে আসছিল। কিন্তু রুমের ভেতর ঢুকতে না পেরে চলে গেছে।

বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রক্টর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন বাংলামেইলকে জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বলে বুঝিয়ে এই বিষয়টির নিস্পত্তি করা হয়েছে। মেয়েরা এখন নিরাপত্তার মধ্যেই রয়েছে।

প্রভোস্ট বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারজানা শাহরিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।


আরোও সংবাদ