কাছিম দেখতে দুইদিন ধরে হাজার হাজার নারী-পুরুষের ভিড়

প্রকাশ:| রবিবার, ২ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:০২ অপরাহ্ণ

বাড়ির আঙ্গিনায় উঠে আসা একটি কচ্ছপ, অলৌকিক ভেবে নারী-পুরুষরা মনবাসনা পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে কলা-বনসহ বিভিন্ন খাবার নিয়ে আসছে

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাউজানঃ
কাছিম দেখতে দুইদিন ধরে হাজার হাজার নারী-পুরুষের ভিড়নিরুদ্দেশ হয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় উঠে আসা একটি কচ্ছপ (কাছিম) দেখতে দুইদিন ধরে হাজার হাজার নারী-পুরুষের ভিড় জমছে রাউজানে বাগোয়ান ইউনিয়নের পাঠানপাড়া এলাকায়। আর ওই কাছিমকে অলৌকিক ‘কিছু’ ভেবে নারী-পুরুষরা মনভাসনা পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে কলা, বনসহ বিভিন্ন খাবার নিয়ে আসছে। কেউ কেউ মানত করা টাকা ও মোমবাতি নিয়েও আসছে ওই বাড়িটিতে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ডিম বা বাচ্ছা দেয়ার সময় হওয়ায় ডাঙ্গায় উঠে গেছে কাছিমটি। এতে অলৌকিক কিছু নেই। সচেতন মহল বলছে এটি মানুষের কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই না।
এলাকাবাসী, প্রত্যক্ষদর্শি ও স্থানীয় অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, কাছিমটিতে দুইদিন ধরে একটি পাত্রে আটকে রেখেছেন পাঠান পাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র সিএনজি অটো টেক্্রী চালক সোলায়মান ভান্ডারি। সেই কাছিমটিকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে বিভিন্ন ধর্মের উৎসুক ও ধর্মভিরু নারী পুরুষ। সিএনজি অটো টেক্্রী চালক সোলায়মান ভান্ডারি তার বাড়িতে কাছিম ধরা পড়ার বিষয়টিকে অলৌকিক মনে করে বলেন ‘আমার দাদা ছমদ ফকির বাচা ফকির প্রকাশ বাচা বাবার প্রথম খলিফা ছিলেন। গত শুক্রবার আমি স্বপ্নে দেখি আমার ঘরে বিয়ের মতো মানুষ আসা যাওয়া করবে। এর পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় দেখি একটি পাঁচ কেজি ওজনের কাছিম আমার ঘরের দুয়ারের সামনে উঠে এসেছে। এরপর আমি সেটিকে একটি পাত্রে (ড্রাম)’এ রেখেছি। খবরটি পাওয়ার পর সাধারণ অনেক নারী পুরুষ সেটিকে দেখতে আমার বাড়িতে ভিড় করছে। তিনি বলেন শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কমপক্ষে পাঁচ হাজার নারী-পুরুষ সেটিকে দেখতে এসেছেন। কেউ কেউ কলা, বনসহ বিভিন্ন খাবার এনে কাছিমটিকে খাওয়াচ্ছেন। অনেকে মনের ভাসনা পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে মোমবাতিও নিয়ে আসছেন। তবে তিনি কেউ টাকা দেননি বলে দাবি করেন। সোলায়মান ভান্ডারি বলেন আমি কাছিমটিকে আমার জিন্মায় রাখবো।’
এদিকে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বহু নারী-পুরুষ একের পর এক আসছে কাছিমটিকে দেখতে। এসময় কারো হাতে বিস্কুট, বন, কলা দেখা গেছে। অনেকে সেগুলো নিজ হাতে খাওয়াচ্ছে কাছিমটিকে। এক কিলোমিটার দূর (গশ্চি দাশপাড়া) থেকে এসেছেন চম্পা দাশ। তিনি বলেন আমি খাছিমটিকে খাওনোর জন্যে বন এনেছি। একই এলাকার তুলসি দাশ বলেন ‘মানত করে দুই টাকা দিয়েছি মোমবাতি দেয়ার জন্যে। হাছান আলী ফকির বাড়ি থেকে এসেছেন ৫৫ বছর বয়সী ছামুদা খানম। তিনি হাতে করে নিয়ে এসেছেন দুটি মোমবাতি। এলাকার লোকজন বলেন শনিবার সন্ধ্যা থেকে দক্ষিণ রাউজানের খৈয়াখালী, বাগোয়ান, পূর্ব গুজরা, পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক বিভিন্ন ধর্মের মহিলা ও পুরুষ কাছিমটিকে দেখতে এবং মানতকরা খাবার, মোমবাতি নিয়ে আসেন।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন ‘জলাশয় কিংবা খাল, নদী থেকে উঠে আসা কাছিমটি অলৌকিক কিছু নয়, এটিকে অলৌকিক রুপ দেওয়ায় অবান্তর। তিনি বলেন ‘কাছিম ডিম বা বাচ্চা দেওয়ার সময় হলে নিরুদ্দেশ হয়ে যেকোন স্থানে যেতে পারে। এই কাছিমটিও হয়তো পাশ্ববর্তি খাল বা নদী থেকে চলে এসেছে।’ তিনি অলৌকিক বিষয়টি সম্পর্কে বলেন ‘গ্রামের কিছু মানুষ আছে যারা হঠাৎ কিছু দেখলে সেটিকে অলৌকিক কিছু মনে করে। সেটা কাম্য নয়।’ বাগোয়ানের সাবেক ইদ্রিছ বলেন মানুষ এখন কুসংস্কার পহ্নি হয়ে গেছে। মানুষের ধ্যান ধারনা এখনো ভূল পথে আছে। সেজন্যেই ওই কাছিমকে দেখতে মানুষ যাচ্ছে।’ এদিকে এলাকার অনেক সচেতন লোকজন বলেছেন ধর্ম ভিরু ও কুসংস্কারবাদী সাধারন মানুষের কাছে কাছিমটিকে অলৌকিক কিছু সাজিয়ে অর্থ উপাজর্নের জন্যে ব্যবহার করার চেষ্ঠা করার প্রয়াস চালাচ্ছে একটি মহল। তারা বলেন কাছিমটি অস্বাভাবিক ওজনেরও নয়, মাত্র পাঁচ কেজি ওজন সেটির। তারপরও মানুষ অন্ধ বিশ্বাসে কাছিমটিকে অলৌকিক ভেবে খাবার, মোমবাতি আনার ঘটনা খুবই দুঃখজনক।