কাঁদলেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডিও

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ০৬:১৬ অপরাহ্ণ

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) ॥

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা পরিদর্শন করতে কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে ৪০ মিনিট সময় কাটিয়েছেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোগান। এ সময় তিনি সদ্য অনুপ্রবেশ করে আসা মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে কথা বলেন। কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ নুর জানান, তুরস্কের ফাস্টলেডি রোহিঙ্গা বস্তিতে এলে এক হৃদয় বিদারক  পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমিনি এরদোগানের কাছে নিজেদের দূর্দশার কথা বলতে গিয়ে রোহিঙ্গারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকে তার সামনে কান্নায় ভেংগে পড়েন।

রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলা ও নিমর্ম নির্যাতন হত্যাকান্ডের কথা শুনলেন ও কাঁদলেন  তুরস্কের ফাষ্ট লেডি এমনি এরদোগান। বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছেন। ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে এক বৈঠকে বসেন। সেখানে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনদের চরম নিপীড়ন, নির্যাতনের কথা বর্ণনা করলে তিনি ধৈর্য্য সহকারে তাদের কথা শুনেন এবং পরে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
মিয়ানমারের মংডুর নাইচং পাড়া এলাকার আবুল বশর(৫০) বলেন, রাখাইন রাজ্যে মুসলিমদের উপর চরম নির্যাতন, অত্যাচার ও নারীদের ধর্ষণ, বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। যার ফলে এপারে পালিয়ে এসে রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছি। মংডুর জাম্বুনিয়া এলাকার মোহাম্মদ হোছন (৪৫) বলেন, মুসলিম নিধনের লক্ষ্যে রাখাইন রাজ্যে ষ্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি সেনাবাহিনী দিয়ে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে। যে কারণে আমরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। এমনকি কেউ ছেলে সন্তান, কেউ পিতা-মাতা কে রেখে এক কাপড়ে নাফনদী ও স্থল পথে পাঁয়ে হেটে ও বোট যোগে এদেশে পালিয়ে এসেছি। ফাষ্ট লেডি পরে এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে রেজিস্ট্রার্ড ও আনরেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর নেন ও কুশল বিনিময় করেন। ওই সময় রোহিঙ্গারা তুরস্কের ফাষ্ট লেডিকে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং কালে তুরস্কের ফাষ্ট লেডি এমনি এরদোগান বলেন, রোহিঙ্গারাও মানুষ, তারা মুসলিম। তাদের উপর মিয়ানমার সরকার সেনাবাহিনী ও রাখাইনদের দিয়ে যে বর্বরোচিত হামলা, ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হবে। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের উপর যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা বিশ্বের মুসলিমদের এক হয়ে প্রতিহত করা উচিত বলে মনে করেন। তিনি ক্যাম্পে দু’ঘন্টা অবস্থান করার পর বেলা ৩টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ত্যাগ করেন।
এসময় ফাষ্ট লেডির সাথে ছিলেন, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুট ক্যাভোফোগল, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন, পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরোজুল টুটুল, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাইলাউ মারমা, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের, আইওএম এর কান্ট্রি ডিরেক্টর পেপি ছিদ্দিকী ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য গত ২৫ আগষ্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীরা উগ্রপন্থি দমনের নামে রাখাইন রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘরে আগুন, অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম, হত্যা, গণধর্ষন করায় রোহিঙ্গারা বাড়িঘর ফেলে এপারে চলে আসে। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা ১০টি আশ্রিত রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। বস্তির রোহিঙ্গাদের দেখতে এলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ফাষ্ট লেডি এমনি এরদোগান।