কাঁচামরিচে কীটনাশকের উপস্থিতি ৯০%

প্রকাশ:| রবিবার, ২৮ জুন , ২০১৫ সময় ০৯:৪৭ অপরাহ্ণ

কাঁচামরিচবাজারের কাঁচামরিচে আগে তেমন ক্ষতিকর কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া না গেলেও এবার ল্যাব পরীক্ষায় তা দেখা গেছে ব্যাপকভাবে। বাজার থেকে নেওয়া নমুনার ৯০ শতাংশ কাঁচামরিচে ক্ষতিকর কীটনাশক পাওয়া গেছে, যা নানা জটিল অসুখের কারণ হতে পারে। আর হলুদ, শুঁটকি মাছেও ক্ষতিকর কীটনাশক দেওয়া হয় বলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কীটতত্ত্ব বিভাগ জানিয়েছে। কাঁচামরিচ কাঁচা অবস্থায় বেশি খাওয়া হয় বলে এতে কঠিন সব অসুখেরও আশঙ্কা বেশি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন খাদ্যে বিষাক্ত কীটনাশকের উপস্থিতি পরীক্ষা করে থাকে। এ বছরের শুরুতে সে রকমই এক পরীক্ষায় শুঁটকি এবং গ্রীষ্মকালীন ফলে গতবারের চেয়ে কীটনাশকের উপস্থিতি অনেক কম পাওয়া গেছে। কিন্তু কাঁচামরিচকে ঘিরে পাওয়া গেছে খারাপ খবর, যা ছিল গবেষকদের চিন্তার বাইরে।

সাধারণত ল্যাব পরীক্ষায় কাঁচামরিচে, কীটনাশকের উপস্থিতি কখনই তেমন একটা পাওয়া যায় না। কিন্তু এবারের পরীক্ষায় বাজার থেকে সংগ্রহ করা কাঁচামরিচের মধ্যে ৯০ শতাংশ নমুনায় অরগানো ফসফরাস জাতীয় কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আবার ৮০ শতাংশ কাঁচামরিচে কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে সহনশীল মাত্রার চেয়ে বেশি, যা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, কিডনির জটিলতাসহ নানা অসুখের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সৈয়দ নুরুল আলম বলেন, ‘মরিচে কীটনাশক দেওয়া হয়। কিন্তু এবারেই আমি দেখলাম অতিরিক্ত পরিমাণ কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। আমাদের গবেষণায় বিষয়টি ধরা পড়েছে।’

কাঁচামরিচ এমন একটি শস্য যা সবচেয়ে বেশি কাঁচা অবস্থায় খাওয়া হয়। আবার পরীক্ষায় এটাও দেখা গেছে, ধুলে কিংবা রান্না করলেও কাঁচামরিচে কীটনাশকের প্রভাব অন্য শস্যের তুলনায় বেশি থাকে।

ড. সৈয়দ নুরুল আলম বলেন, ‘এই কাঁচামরিচে হঠাৎ করে যে কীটনাশক পাওয়া যাচ্ছে তা পোকা দমনের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে। বিষাক্ত রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াও পোকা দমনের জন্য প্রযুক্তি রয়েছে। প্রযুক্তিগুলো খুব দ্রুত মাঠপর্যায়ে যাওয়া দরকার। কারণ এগুলো গেলেই এমনিতেই পোকার আক্রম কমে যাবে। তখন এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না বা হবে না।’

মহাখালীর ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি বিভিন্ন খাদ্য নিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করে। প্যাকেটের খাদ্যেও কীটনাশক কোনো না কোনোভাবে ঢুকে পড়ছে বলে আশঙ্কার কথা বলেন তাঁরা। ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির সাম্প্রতিক পরীক্ষায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেট ধনিয়া গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও জিরা গুঁড়ায় কোনোরকম কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া না গেলেও প্যাকেটের হলুদ গুঁড়ায় ক্লোরেপাইরিফিস জাতীয় কীটনাশকের উপস্থিতি ঠিকই পাওয়া গেছে। আর সেটি পাওয়া গেছে দুটি ব্র্যান্ডের নমুনার দুটিতেই।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরির প্রধান ডা. মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘হলুদ যা মাঠ থেকে তুলে যখন স্টোর করা হয়, যদি তা অনেক দিন রাখা লাগে, সেখানেও হয়তো পোকা ধরতে পারে। সেখানে হয়তো পোকা তাড়ানোর জন্য কীটনাশক স্প্রে করতে পারে। এই হলুদ যখন মেশিনে গুঁড়া করে তখন এটার মধ্যে কীটনাশকের উপস্থিতি দেখা যেতে পারে।’

শুঁটকির মতো যেসব খাদ্যে কীটনাশক উপস্থিতির আশঙ্কা অনেক বেশি সেসব খাদ্যে কীটনাশক পাওয়া যাচ্ছে কম। আর যেখানে কীটনাশক পাওয়ার ব্যাপারে চিন্তা হয় না, সেখানে সেসব খাদ্যে কীটনাশক পাওয়া যাচ্ছে বেশি। এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন মাঠপর্যায়ে তদারকি ব্যবস্থা জোরদারের।


আরোও সংবাদ