কর্মপরিবেশ’র নামে দেশের পোশাক শিল্প নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে-মহিউদ্দিন

প্রকাশ:| সোমবার, ৫ মে , ২০১৪ সময় ০৮:৫০ অপরাহ্ণ

মহিউদ্দিন‘কমপ্লায়েন্সের (কর্মপরিবেশ) নামে দেশের পোশাক শিল্প নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারীরা এরই অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে পোশাক কারখানা বন্ধ করে হাজার হাজার শ্রমিককে পথে বসাচ্ছেন। ষড়যন্ত্রকারীদের এ চক্রান্তকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে।’

সোমবার বিকাল চারটায় নগরীর ওয়াসা মোড়ে গার্মেন্টস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক’ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

শ্রমিক নেত্রী আফরোজা কালামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল, চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফর আলী, শ্রমিক নেতা দিদারুল আলম, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।

সমাবেশে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘কমপ্লায়েন্সের নামে ইতোমধ্যে ১০টি কারখানা বন্ধ করে দিয়ে অসংখ্য পোশাক শ্রমিকের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। আইন মানা হচ্ছে কিনা দেখতে যারা কারখানা পরিদর্শন করছেন তারা নিজেরাই শ্রম আইন মানছে না। শ্রমিকদের ১৫ দিনের বেতন দিয়ে হঠাৎ করে কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ‍আইন মানেল ১১০ দিনের বেতন দিতে হবে।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ারদের সংগঠন ‘অ্যালায়েন্স’ ও ইউরোপভিত্তিক সংগঠন ‘অ্যাকর্ড’- কর্তৃক বিভিন্ন কারখানা বন্ধের সমালোচনা করে তিনি বলেন,‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিনীরা আমাদের বিরোধীতা করেছিল, আজ তারা আমাদের জন্য মায়াকান্না দেখাতে এসেছে। ভিক্ষার ঝুলি নয় আমরা শ্রম দিয়ে সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি। আমাদের পোশাক শিল্প নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না।’

তিনি এসময় কমপ্লায়েন্সের জন্য নূন্যতম ছয় মাস সময় দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘কারখানাগুলো ঝুঁকিমুক্ত, স্বাস্থ্যকর ও শ্রমিকবান্ধব হোক তা আমরা চাই। কিন্তু, তাৎক্ষণিকভাবে শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করে এসব সমস্যার সমাধান করা যায় না। কারখানা মালিকদের নূন্যতম ছয়মাসের সময় দিন। এর মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে কারখানা বন্ধ করুন।’

আগামী ১০ দিনের মধ্যে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো চালুর আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, ‘১০ দিনের মধ্যে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো খুলে দিন। আর কোন কারখানা বন্ধের অপচেষ্টা করবেন না। দাবি না মানলে শ্রমিকরা জীবন দিয়ে তাদের দাবি আদায় করে নিবে। অতীতে বহু ষড়যন্ত্র আমরা জীবন দিয়ে প্রতিহত করেছি এবারও করবো।’

সমাবেশে আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন,‘ বিদেশী বেনিয়া গোষ্ঠী বাংলাদেশের বিকাশমান পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে। নিরাপত্তার অযুহাতে একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের পথে বসানো হচ্ছে। দল-মত, পেশা নির্বিশেষে এ ষড়যন্ত্রকে রুখতে হবে।’

তিনি বলেন,‘কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মালিকরা সাময়িক ক্ষতিগ্রস্থ হলেও শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শ্রমিকরা এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলে শ্রমিক বান্ধব সরকারও পাশে থাকবে।’

এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘শিল্পোন্নত দেশের কারখানা গ্রিন হাউস ইফেক্টের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সেখানে তো পরিবেশ বিনষ্টকারী শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়নি। নিজেদের অপকর্ম নিয়ে তাদের কোন মাথা-ব্যাথা নেই। উন্নয়নশীল দেশের শিল্প কারখানায় যতো মায়াকান্না।’

আফরোজা কালাম বলেন, ‘পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। শ্রমিকদেরকে নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি দেশকে অশুভ শক্তির কালো থাবা থেকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

প্রসঙ্গত, দেশের কারখানাগুলোতে অগ্নি, ভবন ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা- এই তিন ইস্যুতে জোর দিয়ে ‘অ্যালায়েন্স’ ও ‘অ্যাকর্ড’ পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে।


আরোও সংবাদ