‘কর্তৃপক্ষ আমাকে বদলী না করলে কোথায় যাবো’

প্রকাশ:| শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:২৭ অপরাহ্ণ

পেকুয়া প্রতিনিধি

শাহেনা বেগম। পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলা পহরচাঁদা গ্রামের বাসিন্দা। কক্সবাজারের পেকুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ১৫ বছর ধরে এমএলএস পদে কর্মরত দীর্ঘদিন ধরে একই অফিসে কর্মরত থাকার সুবাধে তিনি এখন ওই অফিসের বড় কর্তা! তার ইচ্ছেমতো চলে অফিসের যাবতীয় কাজকর্ম। তার হুকুম ছাড়া অফিসের কোন কাজই হয়না। তার পদ এমএলএসএস হলেও তিনি এখন ওই অফিসের বড় কর্তা পরিচয়ে বেশ দাপটের সাথেই সরকারী চাকুরী করে যাচ্ছেন। অফিসের অন্যান্য কর্তা বাবুরা তার ভয়ে সর্বদা তটস্থ থাকে। নানা অনিয়ম দূর্নীতি করে কাড়ি কাড়ি অর্থের মালিক হয়েছেন ওই কর্মচারী। কিনেছেন প্রচুর জায়গা জমিও। কয়েকটি ব্যাংকেও তার একাউন্টে রয়েছে লাখ লাখ টাকা।

জানা যায়, সরকারী চাকুরীবিধি অনুযায়ী একই কর্মস্থলে ৩বছরের অধিক কর্মরত থাকার নিয়ম নেই। সরকারী ওই জনগুরুত্বপূর্ণ অফিসে কিভাবে ১৫বছর ধরে কর্মরত আছে সে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েক বার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশে ওই কর্মচারী বদলী হলেও অবৈধ অর্থের প্রভাবে বদলী ঠেকিয়ে এখনো একই কর্মস্থলে চাকুরী করছেন শাহেনা বেগম।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, পেকুয়া সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এমএলএসএস শাহেনার বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে ভূমি মালিকারা। ভূমি অফিসের এমএলএসএস শাহেনাকে টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে থাকে। তার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে পেকুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গড়ে উঠেছে ৭/৮জনের সংঘবদ্ধ দালাল সিন্ডিকেট। এসব দালালদের মাধ্যমে ভূমির মালিকদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে হয়রানী করেই থাকে ওই কর্মচারী; এমনই অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

এ বিষয়ে পেকুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এমএলএসএস শাহেনা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ‘ কর্তৃপক্ষ আমাকে অন্যত্র বদলী না করলে আমি কোথায় যাবো উল্টো প্রশ্ন করে এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকারী দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছি; কোন অনিয়ম দূর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্যের সাথে আমি জড়িত নই। তিনি বলেন ‘ আমার নেতৃত্বে ভূমি অফিসে কোন ধরণের দালাল সিন্ডিকেটও নেই।

পেকুয়া উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সেক্রেটারী ডা: মো: আশেক উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ‘১৫ বছর ধরে ওই কর্মচারী জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারী অফিসে কিভাবে কর্মরত থাকে সেটিই এখন বড় প্রশ্নই হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রশ্নের উত্তর হয়তো মিলবেনা। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্থক্ষেপ চেয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ১৫ বছর ধরে একই অফিসে কর্মরত থাকার তথ্য তার কাছে নেই। তবে বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।


আরোও সংবাদ