কর্ণফুলী পেপার মিলকে আধুনিক কাগজ কলে রুপান্তরিত করতে আর্ট পেপার মেশিন ও ড্রিংকিং প্লান্ট নির্মাণ করা হচ্ছে

প্রকাশ:| সোমবার, ২৮ জুলাই , ২০১৪ সময় ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ

কেপিএম চন্দ্রঘোনার কর্ণফুলী পেপার মিলকে পুনরায় লাভ জনক প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করতে আর্ট পেপার মেশিন ও ড্রিংকিং প্লান্ট স্থাপন করা হবে। মিলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে শিল্প মন্ত্রনালয় ও বিসিআইসির সহযোগিতায় কর্তৃপক্ষ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা কর্ণফুলী পেপার মিল পরিদর্শন করে গেছেন।

সংশি¬ষ্ট সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ মেয়াদী এসব কাজে এখনও কোন বরাদ্ধ দেওয়া হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞ কমিটি এ ব্যাপারে যাচাই বাছাই করে প্রতিবেদন পেশ করার পর বরাদ্ধ দেওয়া হবে। স্বল্প ও মধ্য মেয়াদী কাজের জন্য প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্ত্রনালয় ও সংস্থার সহযোগিতায় নতুন ব্লিচিং প্লান্ট নির্মাণ সহ অন্যান্য কাজে বিএমআর প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ কাজে ১৮২ কোটি টাকা বরাদ্ধ ছিল।
সুত্র আরো জানায়, স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেপিএমে বার্ষিক রক্ষনা-বেক্ষন কাজ অচিরেই শুরু হবে। এ ধরনের শিল্প কারখানায় প্রতি বছরেই রক্ষনা-বেক্ষন করার নিয়ম থাকলেও গত ২০০৫ সালের পর থেকে দীর্ঘ ৯ বছরে কেপিএমে একবারও শার্ট ডাউনের কাজ করা হয়নি। এতে মিলে যান্ত্রিক ত্র“টিগুলো আরো বৃদ্ধি পায়। ফলে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। স্বল্প মেয়াদী এ কাজে প্রায় ১১.১৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিলে টারবাইন জেনারেটর, কসটিক ক্লোরিং প¬¬ান্ট, কেমিকেল রিকভারী প¬ান্টের গুরুত্বপুর্ণ কাজগুলোর সংষ্কার পরিবর্তন, পরিবর্ধন করা হবে। প্রতি ১০ বছর অন্তর মিলের টারবাইন জেনারেটর ওভারহলিং করার নিয়ম থাকলেও ১৯৯৯ সালের পর হতে টারবাইনের ওভারহলিংয়ের কাজ করা হয়নি। ফলে এসব মেশিনারিজে নানামুখী সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ কাজে ৫৩.৬৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিটস্যুবিসি হেভী ইন্ডাস্ট্রিজের সহায়তায় এ সমস্ত কাজ করা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া কেমিকেল রিকভারী প¬¬ান্ট সহ অন্যান্য পা¬ন্টের কাজ মুল মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলস্ট্রম ইন্ডিয়ার সাথে কর্তৃপক্ষের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এদিকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের বিশিষ্ট পেপার বিশেষজ্ঞ ও কেপিএমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ ফজলুর রহমান, সাবেক এমডি এস কে সান্যাল ও এ ইউ এম জোবায়েরকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই বিসিআইসির পরিচারলক(কারিগরি ও প্রকৌশল) আবুল বাশার মিয়ার নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ দল কেপিএম পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কেপিএমের এমডি মোঃ মোসাব্বেরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কেপিএম একটি আধুনিক কাগজ কলে রুপান্তরিত হবে।