বন্দরকে অরক্ষিত করার আন্দোলন করেছে মহিউদ্দিন-শাজাহান খান

প্রকাশ:| শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ০৯:০৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদ বন্দরকে অরক্ষিত করার আন্দোলন করেছেন বলে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান মন্তব্য করেছেন। শনিবার দুপুরে কর্ণফুলী নদীর তীরে রাজাখালী খালের মোহনায় চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কর্ণফুলী নদীদূষণ রোধকল্পে টাস্কফোর্সের ড্রেজিং কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে নৌমন্ত্রী আরও বলেন, যারা চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষার নামে আন্দোলন করছেন, মূলত চট্টগ্রাম বন্দরকে রক্ষার পরিবর্তে আপনারা অরক্ষিতভাবে এটিকে রাখতে চান। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে বিদেশ থেকে জাহাজ আসা বন্ধ হয়ে যাবে। এ বন্দর নিয়ে সারা পৃথিবীতে যে ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে তা নষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং আসুন আমরা আলোচনায় বসি। বন্দরে নাকি মাফিয়া চক্র অবস্থান করছে। যারা বলছে তারা আসলে মাফিয়া চক্র বলতে কি বোঝায় তা তারা বোঝেন না। শাজাহান খান বলেন, আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১০ দফা দাবি দিয়েছিলেন। একের পর এক তার দেয়া দফা নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু তিনি কোনো দফাই প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। এবারও তিনি দশ দফা দিয়েছেন। আমি তাকে আহ্বান করব আপনার আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। আপনি আসুন, বসুন, আলোচনা করি। আপনার দাবি যৌক্তিক হলে বাস্তবায়ন করা হবে। নৌমন্ত্রী বলেন, বন্দরের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়। পাঁচ বছরে তারা মাত্র একটা মিটিং করেছে। আর আমরা ২০১০ সাল থেকে আটটা মিটিং করেছি, প্রত্যেকটা মিটিং কার্যকর করার চেষ্টা করেছি। এছাড়া টাস্কফোর্সও গঠন করেছিল চারদলীয় জোট সরকার। পাঁচ বছরে তারা একটি মিটিংও করেনি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর ২৮টা মিটিং করেছি।
শাজাহান খান, মহিউদ্দিন চৌধুরী
নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছি। এ কমিটি কাজ করছে কোন পদ্ধতিতে এনসিটি পরিচালনা করা হলে চট্টগ্রাম বন্দর ও দেশ লাভবান হবে। সে পদ্ধতিতে এনসিটি পরিচালনা করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বন্দরে ১২২ বছরে যা হয়নি, এ সরকারের আমলে তা হয়েছে। বন্দরে ১২২ বছরে রিজার্ভ ছিল সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মনজুর আলম বলেন, জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের বিরাট সমস্যা। এটা নিয়ে আমরা রাজনীতিও করি, কথাও বলি। কিন্তু কার দায়িত্ব কতটুকু ছিল এবং কে কতটুকু পালন করেছি সেটা কেউ বলি না এবং দেখিও না। দুই বছর আগে ড্রেজার বসিয়ে ৫১৭ কিলোমিটার খাল, নালা, নর্দমা পরিষ্কার করেছি। ১০০ কোটি টাকার ইকুইপমেন্ট কেনা হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, চট্টগ্রামের ৬০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় নদী কমিশনের চেয়ারম্যান আতাহারুল ইসলাম, নগর ?আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দিন প্রমুখ।


আরোও সংবাদ