কয়েদির রহস্যজনক মৃত্যু,সড়কে অবরোধ

প্রকাশ:| বুধবার, ৪ জুন , ২০১৪ সময় ০৮:৫৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে জাকির হোসেন (৩০) নামের এক কয়েদির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, জাকির গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আর জাকিরের পরিবারের সদস্যদের দাবি, জাকিরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

জাকিরকে হত্যার অভিযোগ তুলে তাঁর গ্রামের বাড়ি নগরের কর্ণফুলী চরলক্ষ্যা এলাকায় আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

জাকির নগরের কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা এলাকার জেবল হোসেনের ছেলে। কর্ণফুলী থানার একটি অপহরণ মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের ২৪ মে কারাগারে যান জাকির। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জাকিরকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. ছগির মিয়া বলেন, সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি জাকির হোসেন আদালতে বন্দীদের আনা-নেওয়ার রেজিস্ট্রার দেখাশোনা করতেন। গতকাল আদালত থেকে অনেক বন্দীর কারাগারে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। বন্দীদের ওয়ার্ডে রাখাসহ যাবতীয় কাজ সেরে রাত নয়টার দিকে কারা হাসপাতালের সিঁড়ির রেলিংয়ের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান জাকির। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সন্ধ্যার পর কয়েদি জাকিরের বাইরে থাকা প্রসঙ্গে ছগির মিয়া বলেন, কাজ শেষ করতে দেরি হয়ে যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার তদন্তে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের উপ-কারা পরিদর্শক অসীম কান্তি পালকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন রাঙামাটির জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়া ও ফেনীর কারাধ্যক্ষ দিদারুল আলম।

তদন্ত কমিটির প্রধান অসীম কান্তি পাল আজ বিকেলে বলেন, ‘গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও দায়িত্বে গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্পষ্ট হবে তা হত্যা, না আত্মহত্যা।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গের সামনে নিহত জাকিরের ছোট ভাই ইয়াকুব কায়সার কাছে অভিযোগ করেন, ‘আমার ভাই আত্মহত্যা করেননি। এক দিন আগে কারাগারে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে জেনেছি তিনি ভালো আছেন। আমার ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে অন্য কয়েদিরা এ কাজ করতে পারেন। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই আমরা।’ মর্গের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত জাকিরের স্ত্রী নুর নাহার বেগম ও মা কুলসুম আক্তার। তাঁদের দাবি, জাকিরকে মেরে ফেলা হয়েছে।

দুপুর সাড়ে ১২টায় মর্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জামাল হোসেনের উপস্থিতিতে জাকিরের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মোতালেব। তিনি জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে জাকিরের গলার নিচে চন্দ্রাকৃতির দাগ রয়েছে। তাঁর শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়ার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।’


আরোও সংবাদ