কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৬ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

৭ নভেম্বর অমর একুশের প্রথম কবিতার স্রষ্টা ভাষা সংগ্রামী কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ৮৯ তম জন্মদিন। মাহবুব উল আলম চৌধুরী নানা বিষয়ে বিভিন্ন আঙ্গিকে বহু কবিতা,গল্প, নাটক এবং প্রবন্ধ রচনা করেছেন। সম্পাদনা করেছেন পূর্ব পাকিস্তানে প্রকাশিত প্রথম মর্যাদাবান মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সীমান্ত (১৯৪৭১৯৫২)। সত্তর দশকে সম্পাদন করেন চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক স্বাধীনতা’ (১৯৭২১৯৮২)। দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং রাজনীতিকে একই মেলবন্ধনে মিলিয়েছিলেন। ১৯২৭ সালের ৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে আসাদ চৌধুরী পরিবারে তাঁর জন্ম। ২০০৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীকাঁদতে আসিনি ফাঁসীর দাবি নিয়ে এসেছি’ তার উল্লেখ্যযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। ‘আবেগধারা’ তাঁর ছোটবেলায় লিখিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এছাড়া চল্লিশ এবং পঞ্চাশ দশকে ‘ইস্পাত’ এবং ‘অঙ্গীকার’ নামে তাঁর দু’টি কাব্যগ্রন্থ কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। তিনি হুমায়ুন কবিরের ভূমিকা সম্বলিত ‘দারোগা’ ও ‘আগামীকাল’ নামে দুটি নাটকও লেখেন। ১৯৪৬ সালে ‘বিষের নেশা’ নামের একটি উপন্যাসও লিখেছেন। ১৯৪৭ সালে লিখিত তাঁর পুস্তিকা ‘বিপ্লব’ তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে। চট্টগ্রামের কোহিনূর ইলেকট্রিক প্রেস থেকে প্রকাশিত তাঁর ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসীর দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতা পাকিস্তান সরকার বাজেয়াপ্ত করে এবং তার নামে হুলিয়া বের হয়। ১৯৫৬ সালে ‘মিশরের মুক্তিযুদ্ধ” নামে আরো একটি পুস্তিকা চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছেকাব্যগ্রন্থ সূর্যাস্তের রক্তরাগ, সূর্যের ভোর, গরাদভাঙার সংগ্রামীরা জাগো, অদর্শনা, ক্লান্ত বাঁশির সুর, এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে, শিশুকিশোরদের জন্য ছড়ায় ছড়ায় নামের একটি ছড়ার বই; প্রবন্ধ সংগ্রহ সংস্কৃতি : জাতীয় মুখশ্রী, গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র,স্বৈরতান্ত্রিক গণতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্তি, আলোর সন্ধানে দেশ এবং স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ ‘স্মৃতির সন্ধানে’।

১৯৮৬ সালে বাংলা একাডেমী তাঁকে ফেলোশিপ প্রদান করে সম্মানিত করে, ২০০১ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তাঁকে একুশের পদক ও সংবর্ধনা প্রদান করে। তিনি ৩য় স্বাধীনতা বইমেলা পুরষ্কার (২০০৪), চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সম্মাননা পদক (২০০০), সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট (২০০২),চট্টগ্রাম সমিতির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও পদক পেয়েছেন (২০০৩)। এছাড়াও তিনি বহু সংবর্ধনা ও পদক লাভ করেন। ২০০৬ সালে জাতীয়ভাবে তাঁর জন্মদিন পালন করা হয়। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।


আরোও সংবাদ