কবি আবুল মোমেন

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ০৬:৫৯ অপরাহ্ণ

শুভ জন্মদিন!
কবি আবুল মোমেন।

k a mদৈনিক আমাদের সময় ও দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকার উপদেষ্ঠা সম্পাদক কবি আবুল মোমেনের জন্মদিন আজ ১৯ ডিসেম্বর। বর্ণাঢ়্য কর্মজীবনে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবুল মোমেন প্রথম আলোর চট্টগ্রামের আবাসিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালের ২৬ আগস্ট প্রথম আলো থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।১৯৯৮ সালে প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই দৈনিকে কাজ করেন।
১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাশ করার পর কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন আবুল মোমেন। চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজের (বর্তমানে চারুকলা ইনস্টিটিউট) প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রখ্যাত সাহিত্যিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজলের ছেলে আবুল মোমেন। তাঁর মা বিশিষ্ট নারী নেত্রী উমরতুল ফজল। স্ত্রী শীলা মোমেন নামকরা রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সংগ্রামী শিল্পী সংস্থার অন্যতম সদস্য ছিলেন।
আবুল মোমেনের জন্ম ১৯৪৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর। সাংবাদিকতা পেশার শুরুতেই অধুনালুপ্ত চট্টগ্রামের দৈনিক স্বাধীনতা পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে ভাষাসৈনিক মাহবুব উল আলম চৌধুরীর সহকর্মী ছিলেন তিনি। ১৯৭৮ এ চট্টগ্রামের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি লাইফ ও ১৯৮৬ সাল থেকে চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণ-এর সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে ১৯৯৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি দৈনিক ভোরের কাগজের আবাসিক সম্পাদক ছিলেন।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংবাদপত্র জগতের সঙ্গে জড়িত আবুল মোমেন চট্টগ্রামের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। তাঁর সৃজনশীল নেতৃত্বের কারণে নব্বইয়ের দশকের পর থেকে চট্টগ্রামের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা ভিন্ন মাত্রা পায়। চট্টগ্রামের সংকট-সমস্যার পাশাপাশি বিপুল সম্ভাবনার খবর জাতীয় দৈনিকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিনিয়ত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনন্য। দৈনিক ভোরের কাগজ থেকেই তিনি এ ধরনের উদ্যোগ শুরু করেন পরে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রায় সব জাতীয় দৈনিক ও সংবাদ মাধ্যম চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে শুরু করে।
শিশুসাহিত্য, কবিতা, সমালোচনামূলক সাহিত্য ও শিক্ষাসহ প্রায় ২৫টি বই বের হয়েছে আবুল মোমেনের। ১৯৯৪ সালের অগ্রণী ব্যাংকের সাহিত্য পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি। সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমানে রাশিয়া), জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দেন তিনি। ১৯৭৬ সাল থেকে শিশুদের শিক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নিজের গড়া শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ফুলকি’র মাধ্যমে।

তাঁর যে কটি বই বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য:
রবীন্দ্র ভ্রমণ সাহিত্য সমগ্র প্রথম খন্ড (পাশ্চাত্য)
রবীন্দ্র ভ্রমণ সাহিত্য সমগ্র দ্বিতীয় খন্ড (প্রাচ্য)
বাংলা ও বাঙালির কথা
সংস্কৃতির সংকট ও সাম্প্রদায়িকতা
আরো একটি বধ্যভূীম
বিজ্ঞানী মামা ও অপারেশন ফিউচার
মরুভুমি
সূর্য ও শিউলি
অপরূপকথা
কাগজের কুশীলব

প্রসঙ্গত কবি আবুল মোমেনের বাবা আবুল ফজল বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রাষ্ট্রপতির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি মূলত একজন চিন্তাশীল ও সমাজমনস্ক প্রবন্ধকার। তাঁর প্রবন্ধে সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীর ও স্বচ্ছ দৃষ্টিসম্পন্ন মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।


ঘোষণা: দেশের বিশিষ্টজন, বুদ্ধিজীবি/বরেণ্য সাংবাদিকদের পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমে কর্মরতদের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরার সিন্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজচিটাগাং২৪.কম। এ প্রেক্ষিতে আমরা ‘জন্মদিন’ নামের নতুন একটি বিভাগ চালু করেছি। এই বিভাগে আপনিও লেখা-তথ্য পাঠাতে পারেন। লেখা ও তথ্য পাঠানোর ঠিকানা: infocn24@gmail.com