কফি আনান কমিশনের তিন সদস্য’র নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

প্রকাশ:| রবিবার, ২৯ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ১০:২২ অপরাহ্ণ

 

উখিয়ায় নতুন ক্যাম্প পরিদর্শন কালে
রোহিঙ্গাদের কাছে নির্যাতনের করুন কাহিনী শুনছেন কফি আনান কমিশনের সদস্যরা
কায়সার মানিক, উখিয়া :
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্মম ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালি নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন কফি আনান কমিশনের তিন সদস্য। এ সময় তারা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে নির্যাতনের বর্ণনা শুনছেন।  রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা এ পরিদর্শন আসেন। এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও), জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (ইউএনএইচসিআর) ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে বালুখালীতে গড়ে উঠা শরণার্থী ক্যাম্পে ১ হাজার ৭২ পরিবার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, কফি আনান কমিশনের তিন সসদ্যরা গত শনিবার ঢাকায় পৌঁছান। কমিশনের সদস্যরা হলেন- মিয়ানমার নাগরিক উইন ম্রা ও আই লুইন এবং লেবাননের নাগরিক ঘাসান সালামে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা রবি ও সোমবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং স্থানীয় প্রশাসন, জাতিসংঘ ও অন্যান্য বিদেশি সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার সৈকত বিশ্বাস জানান, উখিয়া ও টেকনাফের অনিবন্ধিত ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা সংক্রান্ত বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা। এছাড়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এ তারা একটি মতবিনিময় সভাতেও অংশ নেবেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিনিধি দলটি ফিরে গিয়ে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল করবে। আশা করা হচ্ছে, সেটা কফি আনান কমিশনের মূল রিপোর্টের অংশ হবে। কফি আনান কমিশনের সসদ্যরা প্রসঙ্গত, গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা হয়। এতে সীমান্ত পুলিশের ১২ সদস্য নিহত হয়। এই হামলার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের দায়ী করে তাদের ওপর নির্যাতন চালায় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের নির্যাতনে শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।