কন্টেইনার জটের কারণে বাড়ছে জাহাজের গড় অবস্থান কাল

প্রকাশ:| বুধবার, ৫ অক্টোবর , ২০১৬ সময় ১০:০২ অপরাহ্ণ

প্রাইম মুভার ট্রেইলার শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট কন্টেইনার জটের কারণে বাড়ছে জাহাজের গড় অবস্থান কাল।এতে আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে ব্যবসায়ীদের।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে ৪৮ ঘণ্টায় পণ্য নামিয়ে একটি জাহাজ বন্দর ত্যাগ করতে পারলেও বর্তমানে ৭২ ঘণ্টার চেয়েও বেশি লাগছে। এতে জাহাজ মালিকের ব্যয় বাড়ছে।

বন্দর ইয়ার্ডে জমে থাকা কন্টেইনারের কারণে ইয়ার্ডে জায়গা খালি না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সাধারণত ২৪ হাজার কন্টেইনার ইয়ার্ডে থাকলে জাহাজ থেকে দ্রুত পণ্য নামানো সম্ভব হয়। কিন্তু বর্তমানে বন্দর ইয়ার্ডগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার টিইইউএস কন্টেইনার রয়েছে।

এদিকে প্রায় ৮ হাজার টিইইউস কন্টেইনার ডিপো এবং জাহাজে তুলতে না পারায় ইয়ার্ড খালি করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে বেসরকারি ১৬টি ডিপোতে ৪৭ হাজার খালি কন্টেইনার জমে থাকায় বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের কন্টেইনার আনা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো.জাফর আলম বাংলানিউজকে বলেন, মঙ্গলবার জেটিতে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল ১৬টি পণ্যবাহী জাহাজ। বুধবার বেশ কয়েকটি প্রবেশ করেছে। তবে ইয়ার্ডে জায়গা খালি না থাকায় দ্রুত আনলোড করা যাচ্ছে না। ফলে জাহাজের গড় অবস্থান কাল বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রায় ৮ হাজার খালি কন্টেইনার ইয়ার্ডে পড়ে আছে। এসব কন্টেইনার বিদেশি জাহাজ ও বেসরকারি ডিপোতে পাঠানো হবে। কিন্তু ডিপোতেও জায়গা খালি নেই।

৮ হাজার খালি কন্টেইনার ইয়ার্ড থেকে চলে গেলে বিপুল সংখ্যক আমদানি কন্টেইনার রাখা যেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইয়ার্ডে যে অবস্থা তাতে ভালভাবে মুভমেন্ট করতে পারছে না।

জমে থাকা কন্টেইনার নিয়ে জটিল অবস্থার মধ্যে রয়েছেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান বাংলানিউজকে বলেন, এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেক। পাশাপাশি দেশের ইমেজের ক্ষতি হচ্ছে।

বন্দর ইয়ার্ডে জায়গা খালি না থাকায় ৪৭ হাজার কন্টেইনার ১৬ ইয়ার্ডে জমে আছে জানিয়ে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোটস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার বাংলানিউজকে বলেন, ৫ হাজার ৩০০ রফতানি পণ্যের কন্টেইনার ডিপোতে রয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ৮০০ আমদানি পণ্যের কন্টেইনার বন্দরে পড়ে আছে। জায়গা খালি না থাকায় আনা যাচ্ছে না।

এ ধরনের সমস্যা সমাধানে বন্দরের ইয়ার্ড বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি ডিপোগুলো চাইলে দুইমাসের মধ্যে ইয়ার্ড তৈরি করে নিতে পারে। কিন্তু বন্দরে জায়গা থাকার পরও বছরের পর বছর ইয়ার্ড তৈরি করতে পারছে না। বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।


আরোও সংবাদ