কনস্টেবল ইমামের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজীর অভিযোগ

প্রকাশ:| বুধবার, ২৬ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৯:৫৭ অপরাহ্ণ

পেকুয়া
পেকুয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে থানার ‘কথিত ক্যাশিয়ার’ পরিচয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিনিয়তই পেকুয়ায় চাঁদাবাজী চালিয়ে যাচ্ছে ওই কনস্টেবল ইমাম হোসেন। তার বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে পেকুয়ার বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। থানায় ক্যাশিয়ার পদে কোন লোক না থাকলেও ‘স্বঘোষিত ক্যাশিয়ার’ পরিচয়ে চাঁদাবাজীদে মেতে উঠেছে ইমাম হোসেন।

জানা গেছে, গত ৭/৮ মাস পূর্বে পেকুয়া থানায় যোগদান করেন ইমাম হোসেন। গত এক মাস ধরে পুলিশের ক্যাশিয়ার পরিচয়ে পেকুয়ার সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজী শুরু করেছেন। কেউ তার দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নানাভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। এমনকি পেকুয়ার প্রধান সড়কে বিভিন্ন মালবাহী যানবাহন আটকিয়ে চাঁদাবাজীর সুবিধার্তে ওই ক্যাশিয়ার স্থানীয় ২জনকে চাঁদার টাকা উত্তোলনের জন্য নিয়োগ করেছেন। এ দুইজন লোক প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পেকুয়া চৌমুহুনী এলাকায় অবস্থান করে লবণ ও বিভিন্ন মালবাহী যানবাহন আটকিয়ে পুলিশ ক্যাশিয়ার ইমাম হোসেনের নামে চাঁদা উঠায়। এসময় কনস্টেবল ইমাম হোসেন পেকুয়া চৌমুহুনী এলাকায় সিভিল পোশাকে ঘুরঘুর করে তার নিয়োগকৃত ওই দুই লোককে দেখভাল করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পেকুয়ার-মগনামা বানিয়ার সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত লবণবাহী ট্রাক চলাচল করে। আর এসব লবণবাহী ট্রাক পেকুয়া সদরের চৌমুহুনী এলাকায় থামিয়ে ওই কনষ্টেবল ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিটি লবণবাহী গাড়ী থেকে দুই’শ থেকে তিন’শ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়।

লবণবাহী ট্রাকের একাধিক ড্রাইভার ও হেলপার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, পুলিশের ক্যাশিয়ার পরিচয়ে ইমাম হোসেনে পেকুয়া চৌমুএছাড়াও একই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই চকরিয়া থেকে বিপুল পরিমান চোরাই গাছবাহী পিকআপ ও ট্রাক চলাচল করে। এসব চোরাই গাছবাহী যানবাহন থেকে ক্যাশিয়ার পরিচয়ে পাঁচ’শ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, পেকুয়ার বিভিন্ন স’মিল থেকে থানার ক্যাশিয়ার পরিচয়ে ইমাম হোসেন প্রতিনিয়তই চাঁদা আদায় করেন।

বিশ্বস্থ্য সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া থানার মেস পরিচালনার কথা বলে কনস্টেবল ইমাম হোসেন পেকুয়ার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অব্যাহতভাবে চাঁদাবাজী শুরু করেছেন। প্রতিমাসে মোটা অংকের আদায়কৃত চাঁদার টাকার ভাগ পান জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কয়েকজন কর্তাবাবুরাও! তাই উর্দ্ধতন পুলিশ কর্তারা ক্যাশিয়ার ইমাম হোসেনের চাঁদাবাজী বন্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। পুলিশের এহেন ভুমিকায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে পেকুয়া থানার কথিত ক্যাশিয়ার পরিচয়ধারী ইমাম হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, তাকে থানার মেস পরিচালনার জন্য ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। পেকুয়া চৌমুহুনী এলাকায় দুইজন লোক নিয়োগ করে চাঁদা আদায় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এগিয়ে যান। এসময় কনস্টেবল ইমাম হোসেন এ প্রতিবেদককে আর্থিক লোভ দেখিয়ে আরো বলেন ‘ ভাই প্রতিমাসের শেষে আপনার জন্য ও ….থাকছে। এক পর্যায়ে তিনি এ নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট না করার জন্যও সবিনয়ে অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কান্তি নাথ জানান, তিনি বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।