কদলপুরে যুবলীগ নেতাকে অপহরনের ঘটনায় চরম উত্তোজনা

প্রকাশ:| বুধবার, ২১ মে , ২০১৪ সময় ০৮:৪৬ অপরাহ্ণ

এক পক্ষ আরেক পক্ষ’র উপর দোষ চাপাচ্ছে
শফিউল আলম রাউজান ঃ রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নে গত ১৯ মে সোমবার বিকাল ৪ টার সময় কদলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ সভাপতি মোঃ ইদ্রিসকে তার কদলপুর আবুল হোসেন পোষ্ট মাষ্টারের বাড়ীর সামনে থেকে টিপু চৌধুরী ও জয়নালের ছত্রছায়ায় লালিত সন্ত্রাসী রাশেদ, সেলিম, আজিজ, বেলাল রাজু, বাহার সহ সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরন করে নিয়ে যায় । এই ঘটনার পর অপহৃত যুবলীগ নেতা মোঃ ইদ্রিসের ভাই এসে ইদ্রিস অপহরনের ঘটনা কদলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজাহিদ উদ্দিন লিংকনকে জানালে চেয়ারম্যান মুজাহিদ উদ্দিন লিংকন পরিষদের মেম্বার ও এলাকার লোকজন নিয়ে অপহৃত যুবলীগ নেতা ইদ্রিস কে উদ্বার করতে কদলপুর ইউনিয়নের ঈশান ভট্টের হাট এলাকায় গেলে এলাকার লোকজন সংবাদ দেয় ইদ্রিসকে সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল হক লাভলুর বাড়ীতে নিয়ে আটক করে মারধর করছেন । এসময়ে চেয়ারম্যান বিষয়টি রাউজান থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে চেয়ারম্যান মুজাহিদ উদ্দিন লিংকন ফোনে অবহিত করেন । পুলিশের বিলম্ব হওয়ায় চেয়ারম্যান মুজাহিদ উদ্দিন লিংকন মেম্বার সহ এলাকার লোকজনকে নিয়ে সাইফুল হক চৌধুরী লাভলুর বাড়ীর সামনে গেলে অপহরনকারীরা যুবলীগ নেতা ইদ্রিসকে মারাত্বক আহত অবস্থায় সাইফুল হক লাভলুর বাড়ীর পার্শ্বে ফেলে রেখে পালিয়ে জনতার রোষানল থেকে রক্ষা পায় । এ সময় রাউজান থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মারাত্বক ভাবে আহত যুবলীগ নেতা ইদ্রিসকে উদ্বার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় । বর্তমানে যুবলীগ নেতা মোঃ ইদ্রিস চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে । কদলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজাহিদ উদ্দিন লিংকন বলেন, বিএনপি নেতা শফিউল আলম চৌধুরী টিপু ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের সাথে আতাঁত করে যুবলীগ থেকে বহিস্কৃত মুসলিম উদ্দিন জয়নাল এলাকায় আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের উপর হামলা করে কদলপুরে বিএনপির ক্যাডারদের রাজত্ব করার প্রচেষ্টায় মেতে উঠেছে । তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মে সোমবার যুবলীগ নেতাকে অপহরন করে হত্যার প্রচেষ্টা চালায় । অপহরনের ঘটনার পর আমি এলাকার চেয়ারম্যান হিসাবে মেম্বার ও এলাকার লোকজন নিয়ে যুবলীগ নেতাকে উদ্বার করি । যুবলীগ নেতা ইদ্রিসকে আমার কারনে হত্যা করতে না পেরে অপহরনের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার মানসে মুসলিম উদ্দিন জয়নাল ও তার সহযোগীরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । কদলপুর কাজী বাড়ীর কাজী মুরাদ নামের এক যুবককে গত ১৮ মে এলাকার লোকজন ধরে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেন । মুরাদের বিরুদ্বে রাউজান থানায় ২০১১ সালের দাঙ্গা হাঙ্গামার মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকায় মুরাদকে পুলিশ আদালতে সোর্পদ করেন । মুরাদ পরদিনই জামিনে মুক্তি পায় আদালত থেকে । যুবলীগ নেতা মুসলিম উদ্দিন জয়নালের কাছে এই ব্যাপারে ফোন করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি নেতা শফিউল আলম টিপুর সাথে তার কোন সর্ম্পক নেই, গত উপজেলা নির্বাচনের সময়ে একবার বিএনুিপ নেতা শফিউল আলম টিপু ফোন করেছিলো বলে জানান যুবলীগ নেতা মুসলিম উদ্দিন জয়নাল । রাউজানের কদলপুরে যুবলীগ নেতা ইদ্রিস অপহরনের ঘটনার সাথে তার কোন সর্ম্পক নেই বলে জানান । রাউজান থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন যুবলীগ নেতা ইদ্রিস অপহরনের ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমি থানা থেকে দ্রুত পুলিশ নিয়ে বের হয়ে পড়ি এলাকার লোকজনের সহায়তায় কদলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল হক চৌধুরীর বাড়ীর দক্ষিনে কাজী বাড়ীর সামনে মারাত্বক আহত অবস্থায় যুবলীগ নেতা ইদ্রিসকে উদ্বার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি । যুবলীগ নেতা অপহরন ঘটনার ব্যাপারে এখনো কোন মামলা হয়নি । কদলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজাহিদ উদ্দিন লিংকন বলেন চিকিৎসা জনিত কারনে যুবলীগ নেতা ইদ্রিসের পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত থাকায় মামলা করতে পারেনি । আজ কলের মধ্যে মামলা করা হবে ।