‘কথিত’ কাজীর বিরুদ্ধে বাল্য বিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগ

প্রকাশ:| শনিবার, ৪ জুলাই , ২০১৫ সময় ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া :
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক বাল্য বিয়ের প্রবণতা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাল্য নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও কাজীরা কঠোর অবন্থানে থাকলেও সম্প্রতি বহিরাগত কথিত কিছু কাজীরা গোপনে পেকুয়ায় এসে প্রতিনিয়তই বাল্য নিয়ে রেজিষ্ট্রি করছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে এর সত্যতাও মিলেছে।

স্থানীয়দের সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, শনিবার (৪জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম থেকে কথিত কাজী গিয়াস উদ্দিন নামের লোক পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া নোয়াখালী পাড়া গ্রামে এসে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর-কিশোরীর বাল্য বিয়ে নিবন্ধন করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে সরেজমিনে খোঁজ নিতে গতকাল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পেকুয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাযালয়ের মো. মিজানসহ স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সাহাব উদ্দিন। ওই কথিত কাজী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন বারবাকিয়া ইউনিনের আন্নর আলী পাড়া গ্রামের উকিল আহসদের পুত্র। তিনি গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামের দেওয়ানবাজার এলাকায় একটি মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ওই এলাকার নিকাহ ও তালাক রেজিষ্টারের মুহুরী হিসেবে দায়িত্ব পালনও করে। আর এই সুযোগে মাওলানা গিয়াস উদ্দিন প্রতিনিয়তই স্থানীয় প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অহরহ বাল্য বিয়ে নিবন্ধন করে যাচ্ছেন। ফলে বাল্য বিয়ে নিবন্ধন করে ওই লোক হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, শনিবার (৪জুলাই) সকালে বারবাকিয়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া গ্রামের হাজী নুরুল হোছাইনের বাড়ীতে তার পুত্র প্রবাসী বেলাল উদ্দিনের সহায়তায় একটি বাল্য নিবন্ধন করান ওই কথিত কাজী গিয়াস উদ্দিন। বর হলেন শিলখালী ইউনিনের মাঝের ঘোনা গ্রামের মৃত ফরিদের ছেলে রোকন উদ্দিন (১৫) ও কনে মগনামা ইউনিয়নের চেরাং ঘোনা গ্রামের বাদশা মাঝির মেয়ে শারমিন আকতার (১৬)। বরের চেয়ে কনের বয়স এক বছর বেশি। জন্ম নিবন্ধন যাচাই করে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে গত কয়েক দিন পূর্বে বর রোকন উদ্দিন ও কনে শারমিন আকতার প্রবাসী বেলাল উদ্দিনের বাড়ীতে এসে আত্মগোপন করে। গতকাল ৩ জুলাই সকালে প্রবাসী বেলাল উদ্দিন তার বাড়ীতে আশ্রীত অপ্রাপ্ত বয়স্ক বর ও কনেকে বিয়ে সম্পাদনের জন্য বারবাকিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বথাকা তালাক ও নিকাহ রেজিষ্টার কাজী মো. শোয়াইবকে তার বাড়ীতে ডেকে নিয়ে আসেন। কিন্তু কাজী শোয়াইব বর ও কনের বয়স কম হওয়ায় বিয়ে রেজিষ্ট্রি না করে চলে যান। পরে প্রবাসী বেলাল উদ্দিন তার পূর্ব পরিচিত কথিত কাজীর মূহুরী মৌলানা গিয়াস উদ্দিনকে চট্টগ্রাম থেকে মোটা অংকে ভাড়া করে এনে গতকাল ৪ জুলাই নোয়াখালীস্থ তার বাড়ীতে ওই অপ্রাপ্ত বয়স্ক বর ও কনের বিয়ে সম্পাদন করেছেন। এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। খোদ এ ঘটনায় পেকুয়ার প্রকৃত কাজীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে কথিত কাজী গিয়াস উদ্দিনের গ্রেফতার দাবী করেছেন।

বারবাকিয়া ইউনিয়নের বিবাহ ও তালাক রেজিষ্টার কাজী মো. শোয়াইব জানান, প্রায় সময় কথিত কাজী গিয়াস উদ্দিন চট্টগ্রাম থেকে এসে বাল্য বিয়ে নিবন্ধন করান। তার কারনে আমরা বাল্য বিয়ে ঠেকাতে পারছিনা। তিনি ওই ভূঁয়া কাজীর গ্রেফতারসহ দৃষ্টাস্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

পেকুয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. মিজানুর রহমান জানান, তিনি বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে একজন গ্রাম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বাল্য বিয়ের সাথে জড়িত প্রবাসী বেলাল ও কথিত কাজী মাওলানা গিয়াস উদ্দিনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইউএনও মহোদয়কে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হবে।