কথা রাখলেন পটিয়া থানার ওসি

sharifulrukon প্রকাশ:| সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ সময় ০৪:৩৭ অপরাহ্ণ

পটিয়া প্রতিনিধি
পটিয়ায় গলাকাটা অজ্ঞাতনামা হাই ড্রাইভারের খুনের সহস্য উদঘাটনে পুলিশের উবর্ধন কর্মকর্তারাও যখন সন্দিহান ছিল। ঠিক তখনই পটিয়া থানার ওসি শেখ মো: নেয়ামত উল্লাহ পুলিশের উবর্ধন কর্মকর্তাদের সেদিন কথা দিয়েছিল খুনের এ রহস্য উদঘাটন তিনি করবেনই। যেমন কথা তেমন কাজ। অবশেষে তিনি পটিয়ায় হাইচ ড্রাইভারের গলাকাটা চাঞ্চল্যকর খুনের রহস্য উদঘাটন করে গতকাল সোমবার স্থানীয় সাংবাদকর্মীদের এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার কথা জানান। তিনি জানান, পুলিশের উবর্ধন কর্মকর্তারা ঘটনার পর এ খুনের আসল রহস্য উদঘাটন নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। তারা অকপটে জানান, এ ঘটনা উদঘাটন খুবই দূরহ কাজ হবে। ওসি নেয়ামত উল্লাহ সেদিন কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন এ ঘটনার সহস্য ও সঠিক কারণ আমি উদঘাটন করবোই। যেমন কথা তেমই কাজ।
সেদিন যা ঘটেছিল:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরাকান সড়কের পাশে পটিয়া পৌরসদরের পোষ্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর সকালে একটি হাইচের ভিতরে ড্রাইভারের চাঞ্চল্যকর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে ঘটনার আসল রহস্য। অবশেষে ঘটনার প্রায় ৬৩দিন পর ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসে ঘটনার সাথে জড়িত দুই যুবককে গ্রেফতারের মধ্যে দিয়েই। ওই দিন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরাকান সড়কের পটিয়া পোষ্ট অফিসের সামনে সকালে হাইচের ভিতরের হাইচ ড্রাইভার আব্দুল আজিজের (৫৫) গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। সে কুমিল্লা জেলার মুরাদ নগর নেয়ামতপুর এলাকার সামির উদ্দিনের পুত্র। এ ঘটনায় তার পুত্র পারভেজ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার পশ্চিম কেশুয়া এলাকার হারুনুর রশিদ এর পুত্র মাঈনুর রশিদ তানিম (২০) ও সাথিয়ার আটকিয়া পাড়ার মো: আবদুল আজিজ ড্রাইভারের ছেলে মো: সাব্বির হোসেন (২০) গতকাল সোমবার দুপুরে পটিয়া থানায় সাংবাদিকদের সামনে পুলিশকে ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে তাদের কে ১৬৪ জবানবন্দী নেয়ার জন্য আদালতে প্রেরণ করেন। গ্রেফতারকৃত দুইজন জানান, ড্রাইভার খুনের সাথে তারা ৭জন জড়িত ছিল। এ দুই যুবক জানান, তারা সাত খুনি একটি হাইচ হাইজ্যাক করার পরিকল্পনা নেয়। এ পরিকল্পনার ভিত্তিতে এ সাতজন নগরীর লাল দিঘির পাড় হতে কক্সবাজার যাওয়া আসা বাবদ ১১ হাজার টাকায় ভাড়া করে। কক্সবাজার গিয়ে তারা যথারীতি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ফেরার পথে পটিয়া এসে ড্রাইভারকে পিছন থেকে ছুরি ধরে গাড়ী থামাতে বাধ্য করে। পরে ড্রাইভারকে তার সীট থেকে টেনে হাইচের ভিতরে নিয়ে গ্রেফতারকৃত তানিমসহ ৩জন গলায় ছুরি ঠেকিয়ে জবাই করে দেয়। অন্যরা ড্রাইভারের হাত-পা চেপে ধরে। পরে গাড়ীটি থেমে গেলে আর চালু না হওয়ায় অনেক চেষ্টার পর গাড়ীটি তারা নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর খুনিরা হাইচটি ফেলে এবং ড্রাইভারের লাশটি গাড়ীর ভিতর রেখে যাত্রীবাহী বাসে করে নগরীর শাহ আমানত সেতুর উত্তর পাড় নেমে যে যার মতো করে চলে যায়।
পটিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের সহস্য উদঘাটনে প্রায় দুইমাস ধরে রাত দিন পরিশ্রম করে হয়েছে। পুলিশের উর্ব্ধতন কর্তৃপক্ষও এ হত্যাকান্ডের আসল রহস্য উদঘাটন নিয়ে আশাহত ছিলেন। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে প্রায় ২৮ হাজার মোবাইল কল তদন্ত করতে হয়েছে। অবশেষে প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে কয়েকজন খুনিকে সনাক্ত করা গেছে।