কথাসাহিত্যিক রমাপদ চৌধুরী আর নেই

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| সোমবার, ৩০ জুলাই , ২০১৮ সময় ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

রবিবার দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিকেল ৬-৩৫ মিনিটে তাঁর জীবনাবসান হয়। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত ২০ জুলাই হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হন।
১৯২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর খড়্গপুর শহরে জন্ম রমাপদ চৌধুরীর। খড়্গপুর শহরে স্কুলের পাঠ শেষ করে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন এবং পরবর্তীকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
বন্ধুদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ছাত্রাবস্থায় মাত্র ২৫ বছর বয়সে প্রথম ছোটগল্প রচনা করেন রমাপদ। স্নাতকোত্তর পাশ করে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীতে যোগ দেন। কর্মজীবনে কালক্রমে তিনি ওই পত্রিকার অ্যাসোসিয়েট এডিটর পদে দায়িত্ব পালন করেন। বহু বছর ধরে তিনি পত্রিকার ‘রবিবাসরীয়’ বিভাগের সম্পাদক পদ অলঙ্কৃত করেন।
১৯৫৪ সালে প্রথম উপন্যাস ‘প্রথম প্রহর’ প্রকাশ হওয়ার আগেই তাঁর দু’টি ছোটগল্প সংকলন প্রকাশিত হয়। পঞ্চাশের দশক থেকে জনপ্রিয়তা লাভ করা শুরু করলেও ষাটের দশকে ‘দেশ’ পত্রিকায় তাঁর উপন্যাস ‘বনপলাশীর পদাবলী’ পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি পাঠক সমাজকে আলোড়িত করেন। তিনি ১৯৬৩ সালে আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭১ সালে ‘এখনই’ উপন্যাসের জন্য রমাপদ চৌধুরীকে রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ‘বাড়ি বদলে যায়’ উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৮৮ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। দীর্ঘ সাহিত্য জীবনে তিনি পঞ্চাশটির উপরে উপন্যাস রচনা করেন। এছাড়া দেশ পত্রিকার গল্প সংকলনও দক্ষতার সঙ্গে সম্পাদনা করেন।
২০১১ সালে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্মারক আন্তর্জাতিক পুরস্কার চালু করলে প্রথম বছর ‘বনপলাশী পদাবলী’ উপন্যাসের জন্য রমাপদ চৌধুরীকে ওই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
রমাপদ চৌধুরীর জীবনের উপর একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছে সাহিত্য আকাদেমি। ছবিটির পরিচালক রাজা মিত্র।
রমাপদ চৌধুরীর লেখা একাধিক গল্প ও উপন্যাসকে ভিত্তি করে জনপ্রিয় বাংলা ছবি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘দ্বীপের নাম টিয়ারং’, ‘এখনই’, ‘পিকনিক’, ‘বনপলাশীর পদাবলী’, ‘যে যেখানে দাঁড়িয়ে’, ‘খারিজ’, বীজ কাহিনি অবলম্বনে ‘একদিন হঠাত্‍’ এবং ‘অভিমন্যু’ উপন্যাস অবলম্বনে তপন সিংহ পরিচালিত হিন্দি ছবি ‘এক ডক্টর কি মওত’।
রমাপদ চৌধুরীর প্রয়াণে এদিন গভীর শোক প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকবার্তায় তিনি জানিয়েছেন, ‘বিশিষ্ট সাহিত্যিক রমাপদ চৌধুরীর প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ ৯৬ বছর বয়সে কলকাতায় প্রয়াত হন। বনপলাশীর পদাবলি, যে যেখানে দাঁড়িয়ে ইত্যাদি কালজয়ী উপন্যাসের স্রষ্টা রমাপদ চৌধুরী সাহিত্য অকাদেমি, রবীন্দ্র পুরস্কারসহ নানা সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর কাহিনি অবলম্বনে বহু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। আমি প্রয়াত শ্রীচৌধুরীর আত্মীয় পরিজনসহ তাঁর অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’
রমাপদ চৌধুরীর প্রয়াণে শোকের ছায়া নামে সাহিত্য মহলে। ‘রমাপদ চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি হল,’ মন্তব্য করেন কবি জয় গোস্বামী। বর্ষীয়ান সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় জানান, ‘রমাদা চলে যাওয়া মানে অনেক স্মৃতির বিদায়।’

এই মহানকে ভাটিয়াল পরিবারের শ্রদ্ধা।