কতোটা যোগ্য সৌদির নতুন বাদশাহ?

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:৪২ অপরাহ্ণ

সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের মৃত্যুর পর নতুন বাদশাহ হয়েছেন ৭৯ বছরের সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ। ইতোমধ্যে তার নতুন উত্তরসূরির নামও ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ সালমানের মৃত্যুর পর বাদশাহ হবেন তারই সৎ ভাই সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ৬৯ বছরের মাকরিন বিন আব্দুল আজিজ। ইউরোপিয় রাজাতন্ত্রের মতো সৌদি রাজপরিবারের ক্ষমতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয় না। এখানের ক্ষমতার পালাবদল ঘটে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে। ২০১১ ও ২০১২ সালে বাদশাহ আব্দুল্লাহর তৃতীয় উত্তরাধিকারির মৃত্যুর পর যুবরাজ মনোনীত হন সালমান।

ভাইয়ের শাসনামলে ২০১১ সাল থেকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সালমান। এর আগে প্রায় পাঁচ দশক তিনি রিয়াদের গর্ভণর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত সালমান রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে গঠিত মজলিস আল উতরার প্রধানও ছিলেন।ইতোমধ্যে একবার স্ট্রোক করেছেন তিনি।

নীতিগতভাবে সৌদির এই নতুন বাদশাহ সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত। দেশটির গোঁড়া রক্ষণশীল ধর্মীয়নেতা, শক্তশালী প্রতিদ্বন্দ্বী গোত্র ও প্রগতিশীল আধুনিক তরুণদের মধ্যে তিনি সমন্বয় করতে সক্ষম হবেন বলে মনে করা হয়। উইকিলিকসের ফাঁস করা এক দলিলে জানা যায়, ২০০৭ সালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে সালমান বলেছিলেন, সৌদি আরবের সংখ্যাগরিষ্ঠ রক্ষণশীলদের প্রতিক্রিয়ার কথা মাথায় রেখেই বাদশা আব্দুল্লাহ সংস্কার কার্যক্রম ধীরগতিতে পরিচালনা করছেন। তবে তিনি দেশটিতে গণতন্ত্র আমদানির বিরোধিতা করেছেন। তার আশঙ্কা , সৌদি আরব গণতান্ত্রিক হলেই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট রূপ ধারণ করবে এবং দেশে বিভক্তির আশঙ্কা প্রবল হবে। আরব বিশ্বের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক হিসেবে গণ্য করা হয় তাকে। কারণ সালমান ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে আশারক ও আল ইকতিসাদিয়াহ নামে দুটি আরব দৈনিক। এছাড়া সৌদি রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটিং গ্রুপ(এসআরএমজি) নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ মালিকানাও রয়েছে সালমানের। এই এসআরএমজির মালিকানায় রয়েছে আরব নিউজ, আশারক ও আল ইকতিসাদিয়াহ।

গর্ভণর থাকাকালে রিয়াদের প্রশাসনকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করতে পেরেছিলেন সালমান। যে কোন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে তিনি। জেদ্দাভিত্তিক ‘মিডল ইস্ট ইন্সটিটিউট অব স্ট্র্যাটিজিক স্টাডিজ’ -এর বিশ্লেষক আনোয়ার এশকি বলেন, ‘তিনি (সালমান) আলোচনাপ্রিয় মানুষ। যে কোনও সমস্যা সমাধানে আলোচনাকে প্রধান্য দেন। এছাড়াও তাকে রক্ষণশীল না বলে মধ্যপন্থী বলা যায়। তার প্রতি রাজপরিবারে তরুণ প্রজন্মের অনুগত্য রয়েছে।’

সালমানই প্রথম আরব নভোচারী যিনি ১৯৮৫ সালে মার্কিন মহাকাশযান ডিসকভারিতে করে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।
[four_fifth_last]