কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

প্রকাশ:| শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:১৬ অপরাহ্ণ

কঠোর নিরাপত্তাআবারও ফিরে এল সেই দিনটি; আমাদের মায়ের ভাষাকে শ্রদ্ধা জানানোর উপলক্ষ্যটি। রঙের আভায় এরই মধ্যে উদ্ভাসিত ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। নিরাপত্তার দিকটিও বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আর সুন্দর পরিপাটি করে তোলার কাজটিও শেষ হয়েছে। তুলির আঁচড় পড়েছে দীর্ঘ রাস্তাজুড়ে। চারুকলার ছাত্র-ছাত্রী আর শিক্ষকদের সমন্বয়ে আমাদের ভাষা শহীদদের মনোপটে স্থান করে দিতে ব্যাকুল কেউ কেউ। আবার কারো ব্যস্ততা দেয়ালে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী’গানটির অমর বাণীকে আবারও মনে করিয়ে দিতে। সব মিলিয়ে কেন্দীয় শহীদ মিনার প্রস্তুত ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।

ঘড়ির কাটা টিকটিক করে জানান দিচ্ছে আর বেশি সময় হাতে নেই। একটু পরেই সমস্ত নিরবতা ভেঙে যাবে। চারদিক সাদা-কালো রঙে ভরে যাবে শোকের চাদরে। সাথে থাকবে ভাষা প্রকাশের নিরব চিহ্ন ফুল। একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানবেন ভাষা শহীদদের। এরপর একে একে স্পিকার, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পর সরকার দলীয় ও বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা ফুল দিয়ে সম্মান দেখাবেন। সবশেষে সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

এ উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে, সন্ধ্যার পর থেকেই শহীদ মিনারে আসা সাধারণ দর্শনার্থীদের বের করে দেয় পুলিশ। দোয়েল চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসহ শহীদ মিনারে প্রবেশের রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেড বসিয়ে পাহারা দিতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। এদিকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসা সর্বসাধারণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের জন্য শহীদ মিনার এলাকায় তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। পুরো এলাকাকে নজরদারিতে রাখতে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। এছাড়াও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিতে কাজ করবে সাড়ে ৮ হাজার পুলিশ সদস্যসহ র‌্যাব, বম্ব স্কোয়াড ও স্ট্রাইকিং ফোর্স।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। এছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সবধরনের যান চলাচল।

যোগাযোগ করা হলে একুশে উদযাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সবধরনের প্রস্তুতি শেষ। এখন শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পালা। অন্য যেকোনও বারের তুলনায় এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক কঠোর থাকবে। যাতে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।’