কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করা হবে

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ৯ জুন , ২০১৮ সময় ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

শান্তিপূর্ণ বাদ দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কঠোর আন্দোলনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেকমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান। শনিবার নগরীর পাঁচলাইশ দি কিং অব চিটাগং এ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির ইফতার মাহফিলে তিনি একথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লায়ন আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপি নেতাককর্মীদের মুক্তির দাবিতে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি চাকসু ভিপি মো.নাজিম উদ্দিন। নোমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের মা। তিনি দেশের স্বার্থে কোনদিন কারো সাথে আপোষ করেননি।বিএনপি চেয়ারপার্সনকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে কারগারে রাখা হয়েছে। আমাদেরকে আজ শপথ নিতে হবে। বেগম জিয়াকে যেকোনমুল্যে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্ররক্ষার সংগ্রাম আমাদেরকে চালিয়ে যেতে হবে। কারণ গণতন্ত্র ছাড়া একটি দেশ কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। বিএনপির পক্ষে জনগণ আছে। তাই সামনের আন্দোলনে জনগণ রাস্তায় নামবে। জনগণকে সাথে নিয়ে সরকার পতনের আন্দোলনের সূচনা করতে হবে। আন্দোলনের মূল শক্তি জনগণ। বর্তমানে আইন বেআইন হয়ে গেছে আর বেআইন সরকারের জন্য আইন হয়ে গেছে। দেশে আওয়ামী লীগের জন্য এক রকম আইন বিএনপির জন্য অন্যরকম আইন। ষাটের দশকে আমরা আইয়ূব বিরোধী আন্দোলন করেছি। তখন তাদের শক্তি ছিলো বুলেট টিয়ার শেল। আর গণতন্ত্রকামী মানুষের শক্তি ছিলো জনগণ। জনগণ পাথর দিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। তাই সময় এসেছে কঠোর আন্দোলনের। বাংলাদেশ জোয়ার ভাটার দেশ। এখণ হয়তো বিএনপির জন্য ভাটা চলছে। কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী জোয়ার অবশ্যই আসবে। সেদিন আওয়ামী লীগের পতন কেউ টেকাতে পারবে না। ইনশাল্লাহ বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করবে। তিনি অবিলম্বে বেগম খঅলেদা জিয়া, আসলাম চৌধুরীসহ সকল কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি দাবি করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মো.নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আইনী লড়াই করে আমরা বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে পারবো না। কারণ সরকারের ইশারায় আদালত চলছে। সরকার বেগম জিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। যাতে জিয়া পরিবারের কেউ নির্বাচনে যেতে না পারে। বেগম খঅলেদা জিয়া ছাড়া এদেশে কোন নির্বাচন হবে না। আমরা লিফলেট বিতরণ করেছে, শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছি। কিন্তু ওইসবে আর লাভ হবে না। কঠোর থেকে কঠোর হতে হবে। প্রয়োজনে আমরা নেতাকর্মীরা আত্মাহুতি দিবো। এখনই সময়ে এসেছে রাজপথে নামার। গণমিছিল করতে হবে। কারাগার ঘেরাও করতে হবে। বিএনপি নেতাকর্শীদের উদ্দেশ্যে মীর নাছির বলেন, আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। আসুন রাজপথে নেমে পড়ি। কারণ আমরা জনগণের কাছে ধর্ণা দিবো। আমাদের কোন বিদেশি প্রভু নেই। আমরা কারো লেজুড়েবৃত্তি করি না। শীর্ঘই নতুন সূর্য উদিত হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ‘সরকার বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বিত করছে। দেশকে নিয়ে তারা নানারকম ষড়যন্ত্র করছে। আবারো ৫ জানুয়ারি মার্কা একটি নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু জনগণ তা মেনে নিবে না। আমাদের পিঠ দেয়ালে টেকে গেছে। সময় আর নেই। যে যেভাবে পারেন রাজপথে নেমে পড়–ন।

সভাপতির বক্তব্যে চাকসু ভিপি মো.নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘বীর চট্টলা আন্দোলনের সূতিকাগার। এখান থেকে বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিলো। চট্টগ্রাম থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছে। তাই স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনও চট্টগ্রাম থেকে শুরু করতে হবে। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার পতনে ডাক দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মো.নাছির উদ্দিন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিম উদ্দিন, বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, জালাল উদ্দিন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ছিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এম এ হালিম, অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, আলহাজ্ব ছালাউদ্দিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আমিন, নুর মোহাম্মদ, আজম খান, সেকান্দর চৌধুরী, আবদুল আউয়াল, অধ্যাপক জসীম উদ্দিন, ডা.খুরশিদ জামিল চৌধুরী,নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম রাসেল, সেলিম চেয়ারম্যান, কামাল পাশা, সৈয়দ নাছির উদ্দিন, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, তফাজ্জল হোসেন,জাকির হোসেন, সোলায়মান মনজু, কুতুব উদ্দিন খান, হাসান মো.জসীম, জহুরুল আলম জহুর, সালাউদ্দিন চেয়ারম্যান, মাহবুব ছফা, ইউসুফ নিজামী, আহসানুল কবির রিপন, মোবারক হোসেন কাঞ্চন, দিদার মিয়াজী, ফকির আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন, আবুল বাশার কমিশনার, হাসান মুকুল, মো.ছিদ্দিক, আতিকুল ইসলাম লতিফি, মো.মোরসালীন, ফজল বারেক, ফরিদা বেগম, নার্গিস আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস, আমিনুল ইসলাম তৌহিদ, সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু, আওরঙ্গজেব মোস্তফা, কে আলম, আজিজ উল্লাহ, মানুরুর রশিদ মামুন, আনিস আক্তার টিটু প্রমুখ।

বাজেট নিয়ে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণমূলক না হওয়ায় জনগণ হতাশ হয়েছে। তারা যেহেতু জনগণের সরকার নয়, আর এই সংসদ সদস্যরা যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন, তাই তাদের কাছ থেকে জনকল্যাণমুখী বাজেট আশা করা যায় না। এই বাজেট পাস হলে সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। বাড়িঘরের ট্যাক্স বাড়বে, বাসাভাড়া বাড়বে, ফলে সামগ্রিকভাবে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা বিপাকে পড়বে। কারণ মূল্য সংযোজন করের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। ভ্যাটের ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পেলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরাই কষ্ট পাবে বেশি। চলতি আয়-ব্যয়ে বিশাল ঘাটতি থাকবে। কারণ আমদানি ব্যয় বাড়ছে, রপ্তানি আয় কমছে। রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মূলস্ফীতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। বাজেটে গরিবকে আরও গরিব করবে আর ধনীদেরকে আরও ধনী করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনিতে দারিদ্র্য কমার হার কমে যাচ্ছে। এ বাজেটে দারিদ্র্য কমার হার আরও কমে যাবে। কারণ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, অর্থনীতির নতুন খাত তৈরি হচ্ছে না।’