কক্সাবাজারে গ্রাহকের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও কয়েক কোটি টাকা নিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী লাপাত্তা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ০৬:৪৯ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়ায় গ্রাহকের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও কয়েক কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী। গত ১২ দিন ধরে হদিস নেই তার। নিখোঁজ নাকি আতœগোপন এনিয়ে তৈরী হয়েছে ধু¤্রজাল। শতশত গ্রাহকের বিপুল পরিমান স্বর্ণ ও টাকা কৌশলে প্রতারনা করে হাতিয়ে নিয়েছে ওই ব্যবসায়ী এমনই অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। আর এতে দিশেহারা ভুক্তভোগীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর পেকুয়ার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌং বাজারের আজমীর জুয়েলার্সের স্বত্তাধিকারী পরিতোষ ধর (৫০) হঠাৎ লাপাত্তা হয়ে যায়। দীর্ঘ বিশ বছর ধরে ওই ব্যক্তি পেকুয়ায় স্বর্ণের ব্যবসা করে আসছিলেন। সে সুবাদে তার প্রতিষ্টানের সাথে পেকুয়ায় তার শতশত গ্রাহক ব্যবসায়ীক লেনদেনে জড়িয়ে পড়ে। স্বর্ণ বিকিকিনি, বন্ধক ছাড়াও অনেকে লভ্যাংশের ভিত্তিতে তার প্রতিষ্টানে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগও করেছেন পরিতোষের সাথে। ওই ব্যবসায়ী পেকুয়া বাজার তার প্রতিষ্টান আজমীর জুয়েলার্স থেকে হঠাৎ লাপাত্তা হয়ে যায়। এনিয়ে তার পরিবার দাবি করছেন তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রাম হাজারী গলি থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। এ নিয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে পেকুয়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরী ও করেছেন।
তবে ভূক্তভোগীরা দাবী করছেন, এসব সাজানো। তাদের স্বর্ণ ও টাকা কৌশলে আতœসাৎ করতেই এ পথ বেচে নিয়েছেন। অপর দিকে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুলেছেন পরিতোষ ধর গ্রাহকের কাছ থেকে হওলাতি টাকা ও পৃথক বিনিয়োগকারীদের নগদ টাকা,বন্ধককৃত বিপুল পরিমান স্বর্ণসহ প্রায় কোটি টাকা নিয়ে তিনি উধাও হয়েছেন। পেকুয়ার জুয়েলার্স সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তিনি নিখোঁজ হননি। মুলত গ্রাহকের টাকা ও স্বর্ণ আতœসাৎ করতে এধরনের পথ বেচে নিয়েছে। তাই তাকে কোথাও সন্ধান বা ধরিয়ে দিতে পারলে পেকুয়া জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি ০১৮১৫-১৫২৮৭৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সন্ধান দাতাকে উপযুক্ত পুরস্কৃত করবেন বলে ঘোষনাও দিয়েছেন সমিতি। পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেলেও এনিয়ে গ্রাহকেরা ধারনা ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রতারনার উদ্দেশ্যে তাদের অর্থ ও স্বর্ণ আতœসাৎ করতে মুলত নিখোঁজ হিসেবে জাহির করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,পেকুয়া বাজারের আজমীর জুয়েলার্সের মালিক পরিতোষ ধর পেকুয়া সদর সিকদার পাড়ার সৌদি প্রবাসী মোজাম্মেল হকের জমাকৃত ১৪লাখ টাকা, সাবেকগুলদী এলাকার উলামিয়ার পুত্র ফজল করিমের ৩লাখ, চট্টগ্রাম লোহাগাড়া থানার আমিরাবাদ এলাকার ব্যবসায়ী বষন্ত ধরের পুত্র রন ধরের ১২লাখ, আরো ১০/১২ জন লোকের কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা, পেকুয়া সদরের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব মোক্তার আহমদ চৌধুরীর স্ত্রীর ১৫ভরি স্বর্ণ, পেকুয়া কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের কার্যকরী সদস্য ব্যবসায়ী ইসমাইলের ৪ভরি স্বর্ণ, ভোলাইয়াঘোনা এলাকার জনৈক জাফর আলমের দেড় ভরি বন্ধকী স্বর্ণসহ আরো শতশত স্থানীয় গ্রাহকের বিপুল পরিমান টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে এদিন লাপাত্তা হয়েছে।
এছাড়াও ওই ব্যক্তি পেকুয়া বাজারের উপস্থিত বিভিন্ন জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে এক থেকে পাঁচ লাখ টাকাও ধারা ও নিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ পরিতোষ তার সব ব্যবসা কৌশলে গুটিয়ে আতœগোপন হয়ে পড়ায় তার দ্ধারা প্রতারিত হয়ে পেকুয়া বাজারের এসব স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। জানা গেছে,আজমীর জুয়েলার্সের মালিক পরিতোষ চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানার আমিরাবাদ মঙ্গল নগর এলাকার মৃত দিন বন্ধু ধরের পুত্র। তার আতœগোপন হওয়ার এ খবর চাউর হলে প্রতিদিন পেকুয়া বাজারস্থ আজমীর জুয়েলার্সের সামনে ভিড় জমাচ্ছে ভুক্তভোগীরা। তারা বলেছেন পরিতোষ তাদের টাকা ও স্বর্ণ মেরে পালিয়ে গেছে।

এদের মধ্যে ভুক্তভোগী মোজাম্মেল,জাফর আলমসহ অনেকে জানিয়েছেন পরিতোষ তাদের পথে বসিয়ে দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে গোপন হয়েছে। পেকুয়া জুয়েলারী সমিতির সভাপতি ও বাজারের অনুরুপা জুয়েলার্সের মালিক তপন ধরের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিখোঁজের কথা অস্বীকার করে বলেছেন এ ব্যক্তি টাকা ও স্বর্ণ আতœসাৎ করতে আতœগোপনে রয়েছে।
পেকুয়া বাজার বনিক সমিতির সভাপতি হাজ্বী আক্তার আহমদ এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন গ্রাহকসহ অনেকে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে মাঝে মধ্যে সংযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু কথা বলেন না। যতটুকু আমার ধারনা তিনি নিখোঁজ হননি মুলত লাপাত্তা হয়ে গেছে।


আরোও সংবাদ