কক্সবাজার-৪ আসনের সাংসদ বদি ও তার স্ত্রীর সমস্ত আয়কর নথি জব্দ

প্রকাশ:| বুধবার, ২৯ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৪:৩৪ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাংসদ আব্দুর রহমান বদি ও তার স্ত্রীর সমস্ত আয়কর নথি জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপ-পরিচালক আহসান আলী বাংলামেইলকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কক্সবাজারের বিতর্কিত সাংসদ বদির বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত মোট ৯০টি মামলার খোঁজ পেয়েছে দুদক। এগুলোর মধ্যে শিশু ও নারী নির্যাতনসহ অন্যান্য ভয়ঙ্কর অপরাধের মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, কক্সবাজারে এমন কোনো থানা নেই, যেখানে বদির বিরুদ্ধে মামলা নেই। দুদক এ পর্যন্ত ৯০টি মামলার তথ্য পেয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে বদিসহ সাতজনের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই স্ত্রীসহ বদির সমস্ত আয়কর নথি জব্দ করা হলো।

দুদকের নিয়োগপ্রাপ্ত অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক আহসান আলী অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য সোমবার কক্সবাজার যান।

বদির যত সম্পদ
বদির হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, জীবনে প্রথম সংসদ সদস্য হওয়ার পর পাঁচ বছরে তার আয় বেড়েছে ৩৫১ গুণ। আর নিট সম্পদ বেড়েছে ১৯ গুণের বেশি। অভিযোগ রয়েছে, হলফনামায় বদি কেবল আয়কর বিবরণীতে প্রদর্শিত অর্থ ও সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি গত পাঁচ বছরে আয় করেছেন ৩৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪০ টাকা। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও টেকনাফে জ্বালানি তেলের ব্যবসা করে এ টাকা অর্জন করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।

হলফনামা অনুসারে এমপি বদির বার্ষিক আয় সাত কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৮ টাকা। আর বার্ষিক ব্যয় দুই কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৮ টাকা।

২০০৮ সালের হলফনামায় চিত্র
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জমা দেয়া হলফনামায় বদি বলেছেন, তখন তার বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৪৮০ টাকা। আর ব্যয় ছিল দুই লাখ ১৮ হাজার ৭২৮ টাকা। তখন (২০০৮) বিভিন্ন ব্যাংকে তার মোট জমা ও সঞ্চয়ী আমানত ছিল ৯১ হাজার ৯৮ টাকা। পাঁচ বছরের মাথায় এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট কোটি পাঁচ লাখ ১০ হাজার ২৩৭ টাকা। তার হাতে ২০০৮ সালের নভেম্বরে নগদ টাকা ছিল দুই লাখ সাত হাজার ৪৮ টাকা। আর এখন ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া এখন স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা আছে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৫ টাকা।

আয়কর বিবরণীতে তিনি দেখিয়েছেন, সাত কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৮ টাকা। আর নিট সম্পদের পরিমাণ বলা হয়েছে নয় কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৩ টাকা। পাঁচ বছর আগে ২০০৮ সালের আয়কর বিবরণী অনুসারে, তখন তার বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৮৮০ টাকা। আর নিট সম্পদ ছিল ৪৭ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৩ টাকার।