কক্সবাজার-১ আসনে সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি’র মনোয়ন পত্র সংগ্রহ

প্রকাশ:| সোমবার, ১১ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৯:২৭ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,কক্সবাজার প্রতিনিধি,নিউজচিটাগাং২৪.কম।।সিআইপি সালা
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ১০ নভেম্বর কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি আওয়ামীলীগের মনোয়ন পত্র (সিরিয়াল নং ১৭৭) সংগ্রহ করেছেন। মনোয়নপত্র সংগ্রহ করার কথা ছড়িয়ে পড়লে সালাহ উদ্দিন আহমেদ সি.আই.পি’কে স্বাগত জানিয়ে এদিন তার এলাকায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেছে।
সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি’র রয়েছে এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। সামাজিক ও ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রেও পেয়েছেন নানা সফলতা। পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে এলাকার মানুষের মাঝে তার সুখ্যাতি রয়েছে। চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৫২ সালের ২ জানুয়ারী তিনি জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম ফজলুল করিম চৌধুরী। মরহুম ফজলুল করিম চৌধুরী হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি ১৯৭২ সালে চট্রগ্রাম সরকারী বাণিজ্য কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে বি.কম পাশ করেন। ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। সরকারী বাণিজ্য কলেজ ছাত্রলীগের শিক্ষা ও সাস্কৃতিক সম্পাদক হিসাবে দায়ীত্ব পালন করেছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় সংগঠক ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি তার এলাকায় মুক্তিযুদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতা দেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী আবু ছালেহ(এম.এম.এ) ও এডভোকেট জহিরুল ইসলাম(এম.পি.এ) পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি স্বাধীনতার পর ব্যবসা বাণিজ্যে জড়িত হন। অল্পদিনের মধ্যে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। রপ্তানি বাণিজ্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ১৯৯১ সালে তিনি রাস্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৪ সালে হিমায়িত মৎস্য রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য মৎস্য পদক লাভ করেন। ব্যবসা বাণিজ্যে তিনি আন্তার্জাতিকভাবেও সমাদৃত হন। বহুবার তিনি সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন। সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, ইউকে থেকে রপ্তানি বাণিজ্যে পদক লাভ করেন।
১৯৯৫ সালে তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। ১৯৭৩ সালের পরে এ আসনটি আওয়ামীলীগের হাতছাড়া হয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই থেকে এখনও তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতি আঁকড়ে ধরে আছেন। এক মুহুর্তের জন্য আওয়ামীলীগের রাজনীতি থেকে তার বিচ্যুতি ঘটেনি। চার দালীয় জোট সরকারের নির্যাতন নিপীড়ন, দূর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে তিনি এলাকায় তীব্র আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলেছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালে যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে দায়ীত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে কাউন্সিলারদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হয়ে আজও দায়ীত্ব পালন করছেন। এক সময় চকরিয়া পেকুয়ায় আওয়ামীলীগ দলীয় কোন্দলে জর্জরিত ছিল। গত কয়েক বছরে তিনি সেই কোন্দল নিরসন করে অনেকাটা সফল হয়েছেন। সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি’র যোগ্য নেতৃত্বের কারণে আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এ আসনটি পুনরুদ্ধারে একাট্টা হয়ে কাজ করবেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি অনেক সামাজিক কর্মকান্ড ও এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়েছেন। চকরিয়া পেকুয়ায় তিনি ৫০টিরও বেশী শিক্ষা প্রতিষ্টানের ভবন নির্মাণের জন্য সরকারী অনুদান এনে দেন। এ ছাড়া চকরিয়া ডিগ্রী কলেজকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পরিনত করছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে তিনি বর্তমানে সভাপতি হিসাবে দায়ীত্ব পালন করছেন। এভাবে এলাকার বহু মসজিদ মাদ্রাসা রাস্তাঘাট, গ্রামীন অবকাঠামো নির্মাণে তিনি সরকারী অনুদান ও বরাদ্দ এনে দিয়েছেন। এসব কাজের মধ্যে মাতামুহুরী নদীর উপর মানিকপুর-সুরাজপুর ব্রীজ ও বেতুয়া বাজার-আমান চর ব্রীজ নির্মাণ অন্যতম। এই ব্রীজ দুইটি তার প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি মাতামুহুরী নদীর তিনটি স্থানে পৃথক তিনটি রাবার ড্যাম নির্মাণের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠান। সেই থেকে ওই তিনটি রাবার ড্যাম স্থাপনের জন্য তিনি কাজ করে আসছেন। তার প্রচেষ্টায় সর্বশেষ গত বছর মাতামুহুরী নদীর পালাকাটা ও বাঘগুজারায় দুইটি রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই দুইটি রাবার ড্যাম নির্মাণে সরকার ব্যয় করেছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। গত বছর থেকে চকরিয়া পেকুয়ার প্রায় ৬৫ হাজার কৃষক এ রাবার ড্যামের পুরোপুরি সুফল ভোগ করেছে। এতে চাষের জমির পরিমান বেড়েছে, উৎপাদান বেড়েছে এবং এতদাঞ্চলে বোরো চাষ নিশ্চিত হয়েছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর উখিয়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপিকে কক্সবাজারে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যায় প্রতিষ্টা করে দেয়ার জন্য আহবান করেন। তাৎক্ষনিক তিনি প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের পত্রিশ্রুতি দেন। ওই প্রতিশ্রুতির এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ‘কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যায়’ নামে এই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন দেন। অনুমোদন লাভের পর এখন বিশ্ববিদ্যায়টির প্রতিষ্টার কাজ শুরু হয়েছে। সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি এ বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্টা চেয়ারম্যান হিসাবে রয়েছেন। সালাহ উদ্দিন আহমেদ সি.আই.পি বলেছেন জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকেই মনোয়ন দিবেন এ বিশ্বাস তার রয়েছে। নির্বাচনের তফশীল ঘোষাণা ও তার মনোয়ন চুড়ান্ত করার সাথে সাথে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়বেন। তিনি এলাকাবাসির দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।