কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে শৃৃঙ্খলা ফিরেছে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৭ জুন , ২০১৬ সময় ১১:২০ অপরাহ্ণ

মেডিকেল কলেজসেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও প্রতিনিধি:
২০০৮ সালে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসাবে জেলা সদর হাসপাতালের সি.সি.ইউ এর জন্য নির্মিত ভবনে কলেজের র্কাযক্রম শুরু হয়। এ র্পযন্ত ৮ টি ব্যাচ এ কলেজে ভর্তি হয় এবং ৩ টি ব্যাচ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এম.বি.বি.এস ডিগ্রী র্অজন করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে ইতিপূর্বে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে কোন নিয়ম শৃঙ্খলা ছিলনা। গত ১৮ বছর ধরে কক্সবাজার স্বাস্থ্য বিভাগ একটি বিশেষ স্বার্থান্নেষী মহলের কাছে জিম্মি হয়ে ছিল। আর ঐ মহলের নেতৃত্বে ছিলেন ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পী। তিনি তার নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করতো সকল র্কাযক্রম। উপাধ্যক্ষের কোন পদ না থাকলেও ঐ কল্পিত পদ ব্যবহার করে তিনি ছিলেন মূলত অধ্যক্ষ। তিনি সরকার বদলের সাথে সাথে রং ও খোলস বদলাতে পারেন। বি.এন.পি সরকারের সময় তিনি ছিলেন ড্যাবের নেতা ও বি.এম.এর সভাপতি। র্বতমান সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে তিনি রং পাল্টিয়ে হয়ে গেলেন স্বাচিপ নেতা। তিনি বিভিন্ন গোষ্টিকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করতেন। কথিত আছে সদর হাসপাতালের অফিস সহকারী আবদুস সামাদের সাথে ছিল তার অবৈধ লেনদেন। অফিস সহকারী আবদুস সামাদের রহস্যজনক মৃত্যু, তাকে ময়না তদন্ত ছাড়া দাফন ও ভোল্টে কোটি টাকা প্রাপ্তির সাথে ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পীর সংশ্লিষ্টতা আছে বলে সচেতন মহল মনে করেন। যদিও এইসব অভিযোগের বিষয়ে নিজের সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে বারবার দাবি করে আসছিলেন ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পী।
মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সুষ্টু পড়ালেখার প্রতি তার কোন ভাল নজর ছিলনা । ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল নামমাত্র (১৫%)। বি.এম.ডি.সি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের র্শতাবলী পুরণ না হওয়া স্বত্বেও তিনি অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগ করে দিতেন। কলেজের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট ও ছাত্র-ছাত্রীদের সুষ্ট শিক্ষা জীবন নষ্টের মূলে ছিলেন ডাঃ বাপ্পী।
কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের তিনি তার র্স্বাথ হাসিলের জন্য ব্যবহার করতেন। ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পী জামালপুর মেডিকেল কলেজে বদলি হলে ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে বদলির বিপক্ষে মিছিল ও মানব বন্ধন করান যা ছিল একজন সরকারী র্কমচারীর আচরণ বিধি পরিপন্থী। বদলি হওয়ার পর ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পী বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে মেডিকেল কলেজে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্ঠায় লিপ্ত ছিলেন। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ২ বার ছাত্রদের মধ্যে মরামারি সংঘঠনের নেপত্য নায়ক হলেন ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পী। সকল অসৎ পরিকল্পনা র্ব্যথ হলে ৬ মাস পরে ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পী বদলিকৃত র্কমস্থল জামালপুর মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন। কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ অশোক দত্ত ছিলেন ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পীর হুকুম তামিলকারী মাত্র। তার কোন নিজস্ব সিদ্ধান্ত বা মতামত ছিলনা। ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পী যা বলতেন তা সবাইকে শুনতে হত নইলে বদলি করে দেয়া হত। শিশু ও নবজাতক ওয়ার্ডে রুগী মারা গেলে ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পী তা গোপন করতেন। নিজেকে ভাল ডাক্তার হিসাবে ফুটানোর জন্য ৩৬ জন শিশু মারা গেলে দেখাতেন মাত্র ৩ জন। এভাবে ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পী জতীয় পরিসংখ্যানে অহেতুক মিথ্যা ডাটা সরবরাহ করতেন।
পড়ালেখার ছেয়ে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে গান বাজনা নিয়ে সময় কাঠাতেন। ক্লাস কক্ষে সকালের নাস্তা করতেন। প্রায়ই রাতে ক্লাস কক্ষে গান বাজনা ও বার-বি-কিউ র আসর বসাতেন। রাত দিন ২৪ ঘন্টা কলেজের লিফট চলত। বিদ্যুত ব্যবহারে কোন তদারকি ছিলনা। মাসিক বিদ্যুত বিল হত মাসে ৮০,০০০/- । কলেজের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বিদ্যুত বিল বকেয়া আছে। র্বতমানে মাসিক বিদ্যুত বিল নেমে এসেছে ১৫,০০০/- টাকায়। কলেজের ২ টি গাড়ীর কাগজপত্র ৫ বছর আগে মেয়াদ উর্ত্তীণ হয়েছিল যা র্বতমানে হালনাগাদ করা হয়েছে।
তার অনুসারী ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় পাশ করানোর জন্য ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পী নানা কৌশলগ্রহন করতেন। তার পছন্দমত পরীক্ষক ঠিক করতেন। তাদেরকে মাইক্রোবাসে আনতেন নিতেন এবং বিভিন্ন দামী হোটেলে রেখে মজা করাতেন। আর তার অনুসারী ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় পাশ করিয়ে নিতেন। ডাঃ অরুপ দত্ত বাপ্পী ইতিপূর্বে অসাধাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে শাস্থিপ্রাপ্ত একজন র্কমর্কতা।
কক্সবাজারের ঝিলংঝার জানারঘোনা এলাকায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য স্থান র্নিবাচন করা হয়। অধিগ্রহন করা হয় ৩২.৪১ একর জায়গা। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ভবন ও ১টি ছেলেদের হোস্টেল ও ১টি মেয়েদের হোষ্টেল র্নিমানের কাজ প্রায় শেষ র্পযায়ে। মূল পরিকল্পনায় কলেজের সীমানা প্রাচীর র্নিমানের কোন পরিকল্পনা ছিলনা। অথচ সীমানা প্রাচীর বিহীন অবস্থায় মূল ক্যাম্পাসে কলেজের র্কাযক্রম শুরু করা ঠিক হবেনা কারন এর সাথে কলেজের বিভিন্ন মুল্যবান সামগ্রী, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। গত ৮ বছরে কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর র্নিমানের কোন র্কাযকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের লাইব্রেরীর বইয়ের জন্য আসা ৫০ লক্ষ টাকা বই না কেনায় ফেরৎ চলে যায়। নিজে শিশু বিশেষজ্ঞ হলেও কলেজ লাইব্রেরীতে শিশু রোগ বিষয়ে কোন বই নাই। তিনি যত্র তত্র গাড়ী ব্যবহার করে প্রচুর জ্বলানী তৈলের অপচয় করতেন। নতুন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রেজাউল করিম ৪ মাস পূর্বে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তার প্রচেষ্ঠায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।


আরোও সংবাদ