কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কের বেহাল অবস্থা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর , ২০১৮ সময় ০৯:২১ পূর্বাহ্ণ

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ:
দেশের সর্বদক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় কক্সবাজার টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কের এখন বেহাল অবস্থা চলছে। টেকনাফ থেকে কক্সবাজার প্রবেশদ্বার লিংক রোড পর্যন্ত ৮৬ কিঃ মিটার আঞ্চলিক সড়কের প্রায় সড়ক জরাজীর্ন, গর্ত ও খাদে পরিনিত এবং সংকোচিত হয়ে পড়েছে। ফলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে অযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। যাত্রী সকল জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে যাতায়াত করে আসছে। সড়কের উপর ষ্টেশান, বাজার যত্রতত্র স্থানে যানবাহন, পরিবহণ এবং অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় অনেক সময়, যানজাট পরিনত হয়। এমতাবস্থায় যাত্রীসকল সহজেই গন্থব্যস্থানে পৌছতে দেরী হয়। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে ১১লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তের ৩০ ক্যাম্পে অবস্থানের পর জনসংখ্যা, যানবাহন, পরিবহণ ও এনজিওর গাড়ীর চাপ আরো বৃর্দ্ধি পেয়ে থাকে। এ দীর্ঘ ৮৬ কিঃ মিটার সড়কের পাশেই প্রায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বাজার বসাতে ওদের পদভারে ও অতিরিক্ত যানবাহন ও পরিবহণ চলাচলের কারণে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কটি ব্যস্ত যাতায়াত ও ঝুঁকিতে পরিনত হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে রোড পারমিট ছাড়াই অনেক যানবাহন চলছে ও প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা না নেওয়াতে এর মাত্রা দিনদিন বৃর্দ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া আশ্রিত রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের প্রদত্ত ত্রান সামগ্রী বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গারা সড়ক পথে অবাধ যাতায়াত করে আসছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা সীমান্ত এলাকায় আনাছে কানাছে। পুরাতন রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে নাম নিবন্ধিত করে ক্যাম্পে থাকার নিয়ম থাকলেও তারা প্রতি সপ্তাহের ত্রান নিয়ে চলে আসে টেকনাফ এলাকার পুরাতন পল্লান পাড়া, নাইট্যংপাড়া, জালিয়াপাড়া ও ইসলামাবাদ নিজ নিজ ভাড়া বাসায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কের টেকনাফ পৌর শহরসহ ২৫টি স্থানে সড়কের খানাখন্দক, জরাজীর্ণ খাদে ও গর্তে পরিনত হয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা চরম ঝুঁকি ও প্রাণহানীর হাতছানি দিয়ে ডাকছে। প্রায় সময় এ পথে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে টেকনাফ পর্যটন ও পৌর শহরের প্রবেশদ্বার উঠনী নামক ট্যাক সড়ক হতে কোলালপাড়া শাহপরীরদ্বীপ প্রবেশদ্বার সড়ক পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিঃ মিটার সড়কের এখন নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। নাইট্যংপাড়া থেকে পল্লী বিদ্যুৎ পর্যন্ত সড়কের উভয় পার্শ্বের সড়ক ভেঙ্গে খাদে পরিনত হয়ে সড়কটি সংকোচিত হয়ে পড়ে। সেই সাথে অবৈধ স্থাপনাও গড়ে উঠে। টেকনাফ কাস্টমস অফিস, ষ্টেশানে ও ভূমি অফিসের সামনে সড়ক ভেঙ্গে চৌচির ও গর্তে পরিনত হয়ে চলাচল ও যাতায়াত ব্যবস্থা অযোগ্য হয়ে পড়লে যাত্রীসকল ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। সড়কের পাশ্বে ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় লোকালয়ের বর্ষার পানি চলে আসে সড়কের উপর। ফলে যানবাহন ও পরিবহনের দাক্কায় সড়কটির মাঝপথে ভেঙ্গে গিয়ে গর্তে পরিনত হয়। প্রায় সময় যাত্রীদের বহনকারী সিএনজি, টমটম ও রিক্সা যাতায়াতে গর্তে পড়ে দুর্ঘটনায় শিকার হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ মধ্যে মধ্যে লোক দেখানো সড়ক মেরামত করলেও পরবর্তীতে হয়ে যায় একই অবস্থায়। কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা গুপ্ত বড়–য়া বলেন, বর্তমান সড়কের প্রস্থ ১৮ ফুটের স্থলে ২৪ ফুটে উন্নীত করা হবে। উন্নয়নের সকল কাজ প্রস্তুতি সম্পন্ন। শিগ্রি কাজ শুরু হবে বলে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান।