কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ:| সোমবার, ২৯ মে , ২০১৭ সময় ১১:২২ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার বিমানবন্দর (ছবি: সংগৃহীত)কক্সবাজার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করেছে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আগামীকাল সকাল পৌনে ছয়টা থেকে দু’টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আর বরিশাল বিমানবন্দরে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। সোমবার বিকেলে থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি) জিয়াউল কবির।

১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত জারি হওয়ায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে জানিয়ে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পরিচালক আরও বলেন, ‘আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরির্বতন না হওয়া পর্যন্ত উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। অন্য বিমানবন্দরগুলোতে আবহাওয়া পরিস্থিতির বিবেচনা করে উড়োজাহাজ চলাচল করবে।’

এদিকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার রিয়াজুল কবির বলেন, সোমবার রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত বিমানবন্দরের ফ্লাইট অপারেশন চলবে। তবে আগামীকাল মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আট ঘণ্টা এয়ারপোর্ট বন্ধ থাকবে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরগুলোয় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোয় ৭ বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ০৫ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এদিকে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আরও সামানের দিকে উত্তরদিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার (৩০ মে) সকালের দিকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল এলাকায় আঘাত হানেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। ঘূর্ণিঝড় ’মোরা’ এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সোমবার (২৯ মে) বিকাল থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ও সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিতফরের আবহাওয়াবিদ মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘‘ঘূর্ণিঝড় ’মোরা’ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। উপকূলীয় এলাকায় বর্তমানে গুমোট অবস্থা বিরাজ করছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানিয়েছেন, বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় মোরা কক্সবাজার উপকূল থেকে ৩০৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। তিনি জানান, ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে ৪ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এরইমধ্যে কক্সবাজার এলাকার বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে, জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাগর সৈকত থেকে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সৈকতে স্বেচ্ছাসেবক ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সৈকত এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে উপকূলের খুব কাছে বসবাসকারী অনেকেই এখনও আশ্রয় কেন্দ্র যাননি এমন তথ্যও পাওয়া গেছে। তাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।