কক্সবাজারে স্কুল ছাত্র বলাৎকারের ঘটনায় মামলা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৫ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার প্রতিনিধি কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র বলাৎকারের শিকারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ভিকটিমের মা বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ৯(১)/৩০-২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩, ধর্ষন ও সহায়তা করার অপরাধে ৫ এপ্রিল মামলাটি করেন। যার নং-৯/২৩০/২০১৮। মামলার আসামী একই স্কুলের দশম শ্রেনীর ছাত্র হৃদয় শর্মা ও অহিদুল ইসলাম শাহীনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) বিকালে কক্সবাজার আদালতে তাদের জামিন চাওয়া হয়। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।
এর আগে ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে (৪ এপ্রিল) রাত ১০ টার দিকে ছাত্রবাস থেকে হৃদয় শর্মা ও অহিদুল ইসলাম শাহীনকে আটক করে সদর থানা পুলিশ।
থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ রাত ১ ঘটিকার সময় খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে আটককৃত ওই স্কুলের ১০ শ্রেণীর ২ ছাত্র কর্তৃক বলাৎকারের শিকার হন স্কুল ছাত্রাবাসে থাকা সপ্তম শ্রেনীতে পড়ুয়া এক ছাত্র ( সংগত কারনে নাম প্রকাশ করা হল না)। পরে বুধবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)তে ভর্তি হন ভিকটিম।
ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার (৪এপ্রিল) সন্ধ্যায় হাসপাতালে দেখতে যান কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নোমান হোসেন প্রিন্স। তিনি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
এরপরই কক্সবাজার সদর মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযানে গিয়ে অভিযুক্ত দুই ছাত্রকে স্কুলের ছাত্রাবাস থেকে রাত ১০ টার দিকে আটক করে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নোমান হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে অভিযানকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সোলতান, ইউপি সদস্য শরীফ উদ্দিনসহ মান্যগন্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ভিকটিম (অডিও-ভিড়িও ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষিত) অভিযোগ করে বলে, হৃদয় শর্মা ও অহিদুল ইসলাম শাহীন বেশ কিছু দিন ধরে তাকে বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে বলাৎকার করে আসছিল। তারা ঘটনাটি প্রকাশ না করতে তাকে চাপ দেয়। ভয়ে ঘটনার কথা কাউকে বলেনি। স্কুলের শিক্ষকরাও তাকে ঘটনাটি প্রকাশ না করতে ভয় দেখায়।
ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি হোস্টেল সুপার মাস্টার আবুল কাসেমকে বেশ কয়েকবার অভিযোগ করলেও তিনি গুরুত্ব দেননি বলে ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ। এ জন্য তিনি দায় এড়াতে পারেনা বলে অভিভাবকরা মনে করেন।
বলাৎকারের শিকার ছাত্রের মা (নাম প্রকাশ করা হলোনা) আবেগভরা ভাষায় বলেন, আমার ছেলেকে ভাল রেজাল্ট করার জন্য হোস্টেলে দিয়েছিলাম। হোস্টেলে ভর্তি করার পর প্রায় সময় তাকে নির্যাতন করা হতো বলে জানাতো। আমি বিশ্বাস করতাম না। মনে করতাম লেখাপড়ার ভয়ে এসব বলছে। এরপরও আমার বাচ্চাকে চাপ সৃষ্টি করে হোস্টেলে পাঠাই। পরবর্তীতে এ সমস্যার কথা শুনতে পাই।
৪ এপ্রিল আমার ছোট বোন হোস্টেলে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে, আব্বু তুমি কেমন আছ? এরপর সমস্যা সে তার ঘটনাটি বিস্তারিত খোলে বলে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, ভিকটিমের মা বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করলে এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। তিনি জানান, আসামীদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।