কক্সবাজারে এবার বসছে ৪৪টি কোরবানির হাট

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:০৫ অপরাহ্ণ

গরুর হাটসেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও প্রতিনিধি: আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই হবে মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলেই জেলার আনাচে-কানাচে বসবে স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাট্। তবে ইতিমধ্যেই দেখা গেছে চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর বিভিন্ন জায়গায় পশুর হাট বসানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে শুরু হবে পশু বিকিকিনির কাজ। এখন চলছে হাট গোছানের কাছ।
মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা আগামী ১২ সেপ্টেম্বর। এই ঈদের ্প্রধান কাজ সামর্থ অনুযায়ি পশু কোরবানি । জেলায় এবার ছোট-বড় ৪৪টি কোরবানির হাট বসছে। বাজারে কোরবানের পশু পরীক্ষার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেডিকেল টিম কাজ করবে । জাল নোট সনাক্তকরণে বাজারে থাকছে ৪৪টি বিশেষ মেশিন। ছিনতাইকারিদের দ্যৌরাত্ব্য বন্ধে এবং ক্রেতা- বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তায় বাজারে নিয়োজিত থাকবে পুলিশের বিশেষ টিম।
কোরবানের বাজারে নিরাপত্তা বিষয়ে ককসবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন কোরবানের পশুর হাটে প্রতিটি বাজারে ১টি করে পুলিশের টিম কাজ করবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে ও বিশেষ পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন থাকবে। উপজেলার সমন্বয় মিটিং এ সকল চেয়ারম্যানদের নিরাপত্তা বিষয়ে নানা ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে গত বুধবার কোরবানির বাজারের প্রথম দিনেই খরুলিয়া বাজারে ২১৫ টি গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানান ইজারাদার মোঃ শরিফ উদ্দিন। গতকাল ছিল নিয়মিত হাটবারের পাশাপাশি কোরবানের পশুর হাট। ফলে ক্রেতারা ঝামেলা এড়ানোর জন্য শুরুতেই গরু ক্রয় করতে দেখা গেছে। ইজারাদার শরীফ উদ্দিন জানান-গতকাল খরুলিয়া বাজারে ১০ হাজারের মত গরু বাজারে তুলেছে বিক্রেতারা। গরুর সারি প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কজুড়ে ছিল। প্রচুর গরু বাজারে সরবরাহ থাকলেও মাঝারি মানের গরুর দাম বেশি।
সদরের ঈদগাও বাজার,পি,এমখালী জুমছড়ি বাজার,রামুর কলঘর বাজার , মিঠাছড়ির কাটির রাস্তা বাজার , উখিয়ার মরিচ্যা ও রুমখাঁ বাজারসহ প্রায় সবকটি বাজারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাজারে মায়ানমারের, ভারতের এবং দেশিয় প্রচুর গরু মজুদ করেছে বিক্রেতারা। হাট সমুহে ক্রেতা সাধারণের নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশি টহল জোরদারের পাশাপাশি নতুন করে সাজানো হয়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি যেন নির্বিঘেœ বিকিকিনি করা যায় এজন্য সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খরুলিয়া বাজারের ইজারাদার ।
এদিকে সদর উপজেলার তথা জেলার সর্ব বৃহৎ পশুর হাট খরুলিয়া বাজারসহ ৪টি হাটই সড়কের উপর হওয়ায় দূর্ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।।
খুরুস্কুল রাস্তার মাথার পৌরসভার একমাত্র কোরবানের পশুর হাটটি আগামি ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি শুরু হবে বলে জানা গেছে। এ বাজারে বিক্রি বাড়াতে নেয়া হয়েছে সেলফি অফার। বাজার থেকে সেলফি তুলে যিনি সেরা হবেন তার জন্য ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ পুরস্কার ঘোষনা করেছে ইজারাদার।
এদিকে গেল বাংলা বর্ষে খরুলিয়া ও ঈদগাও বাজার সারা বছরের জন্য ইজারা সম্পন্ন করেছে সংশিষ্ট প্রশাসন। ইজারা হওয়া ২টি বাজার নিলাম হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এদের মধ্যে খরুলিয়া বাজারের ইজারা হয়েছে রেকর্ড ১কোটি ২ লাখ টাকা এবং ঈদগাও বাজারের ইজারা হয়েছে ৫৪ লাখ টাকা। এছাড়া পিএমখালীর নুর মোঃ চৌধুরীর বাজার, জুমছড়ি বাজার চলতি মাসে ইজারা হবে বলে জানা গেছে। কোরবানির পশুরহাট ইজারার মাধ্যমে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলে ও বাজার সমূহের উন্œয়নে তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় হতাশ ইজারা গ্রহিতারা।
ইজারাদার ও স্থানিয় ব্যবসায়িদের অভিযোগ – জেলার বৃহৎ কোরবানির পশুর হাট খরুলিয়া বাজার প্রতি বছর সর্বোচ্চ টাকায় ইজারা হলেও বাজারটির উন্নয়নে তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। মহাসড়কের উপর প্রতি বছর বাজার বসে। ফলে ঈদুল আযহার সময় গরু কিনতে আসা অনেক লোক সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
বাজার বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ইজারাদাররা নিরুপায় হয়ে সড়কের উপর পশুর হাট বসাতে বাধ্য হন বলে জানান। গত বছর ও খরুলিয়ার পশুর হাটটি রের্কড ১ কোটি ২ লাখ টাকায় ইজারা হয়। প্রতি বছর বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় হলেও খরুলিয়া বাজারটি নানা কারনে অবহেলিত। নির্মান করা হয়নি বিভিন্ন শেডের। প্রতি রবি ও বুধ বার সপ্তাহে ২ দিন নিযমিত পশুর হাট বসলেও ক্রেতা-বিক্রেতা চরম ঝুকি নিয়ে সড়কের উপর বিকিকিনি সারছে।

সড়কের উপর বাজার বসার কারনে সড়কের উভয় পাশে মাটি সরে গিয়ে মহাসড়কের মারাত্বক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। অপরদিকে সদরের অপর বৃহৎ কোরবানির পশুর হাট ঈদগাও বাজার ও গত ঈদুল আযহায় ইজারা হয়েছে ৫৪ লাখ টাকায়। এ হাটটিও মহাসড়কের উপর বসার কারনে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি তীব্র যানজট লেগেই থাকে।
খরুলিয়া ও ঈদগাও বাজারের ইজারাদাররা সড়ক দুর্ঘটনার কবল থেকে ক্রেতা, বিক্রেতা ও সাধারণ পথচারিদের রক্ষায় মহাসড়কের উপর থেকে সুবিধাজনক স্থানে কোরবানির পশুর হাট স্থানান্তরের অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট।
এদিকে কোরবানের ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু-ছাগল আনতে শুরু করেছে।
স্থানীয় গরুর খামারীরাও বাজারে উঠানোর আগে কৃত্রিম উপায়ে পশু মোটা-তাজা করার কাজে সময় ব্যয় করছেন। অন্যদিকে কৃষকের গৃহে পালিত পশুগুলোও বাজারে উঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা। এদিকে কোরবানের ঈদ উপলক্ষে পুঁজি খাটানো মৌসুমী গরু ব্যপারীরা বলছে দেশের বিভিন্ন দুর-দুরান্ত থেকে এখনও পর্যাপ্ত গরু-ছাগল এসে পৌঁছাইনি। এসব পশু হাটে আসতে আরও কয়েকদিন লাগবে বলে জানান অনেক ব্যবসায়ী। জিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।
কক্সবাজারের গবাদি পশুর বৃহত্তম হাট ঈদগাঁও বাসষ্টেশন্ ও খরুলিয়ায় দেখা গেছে, পশুহাট ইজারাদাররা মহাসড়কের উপর হাট বসানোর সংস্কারকাজ করছে। রাস্তার পাশে পশু রাখার জন্য শেড তৈরী করা হচ্ছে। এছাড়া স্থায়ী হাটকে কেন্দ্র করে সড়কের দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁস-গাছের খুঁটি পোতা হচ্ছে।
এছাড়া খুটাখালী, নতুন অফিস, জোয়ারিয়ানালা, কালির ছড়া, তেচ্ছিপুল, কলঘরসহ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে বসবে জেলার বিশেষায়িত হাট। গরু ব্যবসায়ী মিয়া জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে জেলার সব স্থায়ী ও অস্থায়ী হাট পুরোদমে শুরু হতে পারে। চোরাচালান বন্ধে মায়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তাবাহিনী কড়াকড়ি আরোপ করায় মূলত গরু আসতে দেরী হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
জনা যায়, প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও জেলার স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি কয়েকটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর ইজারা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।