কক্সবাজারে আবহাওয়ার বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় জনজীবন বিপর্যস্থ

প্রকাশ:| শনিবার, ২১ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ১০:৩১ অপরাহ্ণ

সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁও,কক্সবাজার প্রতিনিধি: আবহাওয়ার বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সমুদ্র উপকুলবর্তী মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সারা বিশ্বজুড়ে চলমান আশংকা ও উদ্বেগ ধীরে ধীরে বাস্তবরূপে আবির্ভূত হতে শুরু করেছে। জাতিসঙ্গে জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ুর বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোকে আরও বেশী সহযোগেীতা করার জন্য বিশ্বের ধনী দেশ দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছিলেন। গত কয়েকদিনের গুমট আবহাওয়ায় কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, শাহপরীরদ্বীপ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়াসহ বঙ্গোপসাগরের উপকুলীয় নিম্নাঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চল সমূহে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও নানা মুখি সামাজিক এবং প্রতিবেশগত মিথষ্ক্রিয়ায় ওই সকল অঞ্চলের জনগোষ্ঠির অস্তিত্ব বিপর্যস্ত হতে চলেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত কয়েক দিনের মাঝামাঝি থেকে ভারী মৌসুমী বৃষ্টির কারনে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষের নাগরিক জীবন। এছাড়া গতকয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে জল-কাঁদায় একাকার শহরের সড়ক-উপসড়ক। এমনকি সদরের ঈদগাঁও বাজারের কিছু কিছু এলাকায় হাটু পরিমান পানিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা ।
জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে ঘন ঘন নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যা, টর্ণেডো, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধি, ভূমিক্ষয়, লবণাক্ততা, ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদী-নালা-খাল-বিল ও জলাশয়, নিচে নেমে যাচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্থর, বিপন্ন হচ্ছে জীববৈচিত্র্যতা। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতাবৃদ্ধির ফলে প্রতিবেশের স্বাভাবিক খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙ্গে পড়ছে এবং মানুষের আচরণগত অভ্যাস পরিবর্তন হয়ে দেখা দিচ্ছে শারীরিক ও মানসিক জটিলতা। জার্মান ওয়াচ এর গ্লোবাল ক্লাইমেট ইন্ডেক্স ২০১১ অনুযায়ী জলোবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝূঁকিপ্রবন ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষনা সংস্থা “নাসা”র তথ্যানুযায়ী চলতি শতকের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ কিছু কিছুূ উপকুলীয় এলাকা সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে ইংগিতও দিয়েছেন। যা শুধু উপকুলীয় নিম্নাঞ্চল ও দীপাঞ্চল সমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেই হিসেবে সমুদ্রশহর কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়াদ্বীপ, কক্সবাজার সদরের উপকুলবর্তী খুরুস্কুুল, পিএমখালী, ভারুয়াখালী, চৌফলদন্ডী, ইসলামপুর, পোকখালী, চকরিয়ার বদরখালী, পেকুয়ার মগনামাসহ সমুদ্র উপকুলের নিম্নাঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চলসমূহ অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। পরিবেশ ও আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের ধারণা ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৪ থেকে ৫.৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনে হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্যতা ও প্রতিবেশ। পরিবেশবিদদের অভিমত জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মারাত্মক ঝূঁকির কবলে পড়তে হবে বাংলাদেশের উপকুলীয় জেলাসহ সমগ্রবিশ্বের বিভিন্ন দেশকে এবং অচিরেই ঝূঁকিতে থাকা দেশসমূহকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত জটিলতারোধকল্পে ব্যাপক গণসচেতনতা এবং কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী।

গোমাতলীর ১০ গ্রাম প্লাবিত: তলিয়ে গেছে চিংড়ি ঘের
কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলীর ১০ গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। শনিবার (২১অক্টোবর) সকাল থেকে গ্রামের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এতে এসব গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ড় মেম্বার আলাউদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মেম্বার আলাউদ্দীন জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পর মহেশখালীর চ্যানেল সংলগ্ন ৬৬/৩ পোল্ডারের বেড়িবাঁধ আর সংস্কার করা হয়নি। এই কারণে তখন থেকে ইউনিয়নের গোমাতলীর (৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড) ১০ গ্রামে জোয়ার-ভাটা চলছে। গ্রামগুলো হলো উত্তর গোমাতলী রাজঘাট পাড়া, চরপাড়া, গাইট্টাখালী, আজিম পাড়া, বারডইল্লাপাড়া, বদরখাইল্যা পাড়া, পূবর্ গোমাতলী, কোনাপাড়া, আইছিন্নপাড়া, পশ্চিম গোমাতলী। এর মধ্যে শনিবার বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করলে সাগরের পানি বেড়ে গিয়ে ওইসব গ্রামগুলো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরো জানান, পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ১২টি চিংড়ি ঘের। পান্দিবন্দি থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও গোমাতলী সমবায় কৃষি ও মোহাজের উপনিবেশ সমিতির সহ সভাপতি সাইফুদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গোমাতলীর মানুষ পানির ভেতরে বসবাস করছে। সিমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে এখানকার মানুষ জীবন যাপন করলেও কর্তৃপক্ষের কোনো ধরণের নজরদারি নেই।
পোকখালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ বলেন,বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সাগরে পানি বাড়ায় গোমাতলীর ১০ গ্রাম পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। রাতে পানি আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই লোকজনকে নিরাপদে সরে আসতে বলা হয়েছে।