কক্সবাজারের পেকুয়ায় ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীতে দূর্নীতি: ফেরৎ যাচ্ছে নন ওয়েজ খাতে বরাদ্দের ৬লাখ টাকা!

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৭:৩১ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়ায় অতি দরিদ্রের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচী বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দূর্নীতির কারণে নন ওয়েজ খাতে বরাদ্দকৃত প্রায় ৬লাখ টাকা ফেরৎ যাচ্ছে! এ নিয়ে কর্মসৃজন প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিক ও স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের সাথে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ কর্মসূচী বাস্তবায়নে সীমাহীন লুটপাঠ ও দূর্নীতির আশ্রয় নেওয়ায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নন ওয়েজ খাতে বরাদ্দের ৬লাখ টাকা ফেরৎ যাচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
এর সত্যতা স্বীকার করে পেকুয়ায় অতি দরিদ্রের জন্য ৪০দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচীর প্রকল্প সুপারভাইজার মো: সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা নন ওয়েজ খাতের ব্যয়ের জন্য কোন প্রকল্পই জমা দেয়নি। গত বারে এ প্রকল্পে ব্যাপক দূর্নীতি হওয়ায় তারা এ বারে নন ওয়েজ খাতের বিল উত্তোলন করে কোন প্রকল্পই করতে আগ্রহী নন। তিনি আরো জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই নন ওয়েজ খাতের অর্থগুলো ফেরৎ যাবে।
পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যাললয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ নানা অবকাটামো সংস্কার ও উন্নয়নে ২০১৩-১৪ অর্থ বৎসরে পেকুয়া উপজেলার ৭ইউনিয়ননে ২৭টি প্রকল্পের বিপরীতে ৮৭১জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। আর এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের খাদ্য, ত্রাণ ও পূর্নবাসন মন্ত্রাণালয় থেকে ৬৯ লাখ ৫৮হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বরাদ্দের আলোকে গত বছরের ২৬ অক্টোবর উপজেলার ৭ইউনিয়নে কাজ শুরু হয়ে ২০ডসেম্বর শেষ হয়। আর পেকুয়ার ৭ ইউনিয়নে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা আশ্রয় নিয়েছেন নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির। অধিকাংশ প্রকল্পেই নামমাত্র কাজ করে সরকারী অর্থ হরিলুট করে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কোন ধরনের তদারকী না থাকায় এ প্রকল্পে পেকুয়া উপজেলায় লুটপাঠের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ উঠেছে, এসব প্রকল্পের সাথে জড়িতরা শ্রমিকদের দিয়ে নামমাত্র কাজ করে সরকারী বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ অর্থ হরিলুট করেছে। অনেক প্রকল্পে ৪০দিনের পরিবর্তে ১০/১৫দিন কাজ করে ভূয়া বিল-ভাইচার তৈরী করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, গত ২০১২-১৩ অর্থ বৎসরে ও পেকুয়া উপজেলায় অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর নন ওয়েজ খাতের ২৪লাখ টাকা লুটপাঠের ঘটনা ঘটেছিল। এ নিয়ে স্থানীয় ত্রাণ ও পূর্ণবাসন মন্ত্রাণালয়ের সচিবের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্থানীয়রা। পরে অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা গত বছরের ডিসেম্বরে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করলে নন ওয়েজ খাতের ২৪ লাখ টাকা আতœসাতের সত্যতা পান।
পেকুয়া উপজেলার কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পেকুয়ার সাবেক ইউএনও নুর-ই-খাজা আলামীন (বর্তমানে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের ইউএনও) সেসময়ে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে ওই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ব্যাংকের খালী চেকে স্বাক্ষর আদায় করে ব্যাংক থেকে বরাদ্দের পুরোটাই উত্তোলন করে নিয়েছিলেন। পরে ইউএনও খাজা বরাদ্দের কিছু অর্থ তার তার পচন্দের ২/৩ জন ইউপি চেয়ারম্যান ও পেকুয়ার সাবেক পিআইও আবুল কালাম মিয়াজীসহ আরো কয়েকজন অসাধু সরকারী কর্মকর্তাদের মাঝে উত্তোলনকৃত কিছু অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করে দেন। এ অভিযোগে পিআইও আবুল কালাম মিয়াজীকে পেকুয়া থেকে গত কয়েক মাস পূর্বে অনত্র বদলী করা হয়েছিল।
পেকুয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শামশুল হক পাটোয়ারী এ ব্যাপারে জানান, ৪০দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচীর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কমিটি নন ওয়েজ খাতের কাজ করতে অপরাগতা জানালে অর্থগুলো ফেরৎ যাচ্ছে। তিনি চলতি অর্থ বৎসরে শেষ হওয়া কর্মসংস্থান কর্মসূচীতে কোন ধরণের অনিয়ম হয়নি বলে দাবী করেছেন।