কওমি মাদ্রাসা নামধারী জঙ্গি আস্তানাগুলোকে চিহ্নিত করুন

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:১২ অপরাহ্ণ

কওমি মাদ্রাসা নামধারী জঙ্গি আস্তানাগুলোকে চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২১ ‍জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে একটি মানবাধিকার সংগঠনের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘লক্ষ্য রাখবেন প্রতিটা এলকায় ব্যাঙের ছাতার মত কওমি মাদ্রাসা যেগুলো গড়ে উঠেছে, কেন হচ্ছে, কারা করেছে এবং এ সমস্ত মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে জঙ্গিদের আস্তানা কোনগুলো সেগুলো আপনাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। ’

তিনি বলেন, ‘আজকে যেভাবে ব্যাঙের ছাতার মত কওমি মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে প্রত্যেকটি এলাকায়, একেকটি এলাকায় কতগুলো মাদ্রাসা আপনি হিসাব করতে পারবেন না, এসব মাদ্রাস‍া থেকে ট্রেনিং ক্যাম্প যেগুলো আবিস্কার হচ্ছে, যেখানে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে এমন সব অস্ত্রের ভাণ্ডার সেখানে, আপনারা এই সমাজকে রক্ষা করতে হলে তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হতে হবে। ’

‘বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি দিয়ে তারা ফায়দা হাসিল করতে ‍চায়। একজন মুসলমান কখনো আরেকজন মুসলমানকে এভাবে হত্যা করতে পারেনা। এটা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আমাদের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়ার একটা ষড়যন্ত্র। এর বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। মানবাধিকার কর্মীরা, বলিষ্ঠভাবে এর বিরুদ্ধে আপনারা কাজ করবেন। ’ বলেন মন্ত্রী।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনার সন্তানদের রক্ষা করতে হবে। সন্তান মাদ্রাসা পড়ুয়া কিংবা ইংরেজি পড়ুয়া এ-লেভেল ও-লেভেল হোক, আজকে যেভাবে তারা বিভ্রান্ত হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে আপনাদের সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হতে হবে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

‘আজকের পত্রিকায় দেখেছেন ২৭ জনের ছবি, তারা সিঙ্গাপুরে ধরা পড়েছে। তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তারা বাংলাদেশের সন্তান, আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। আমাদের সন্তানদের যারা ভুল পথে পরিচালিত করতে চায় তাদের হাত থেকে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হবে। ’ বলেন মন্ত্রী।

মাদকের ভয়াবহতা নিয়েও মানবাধিকার কর্মীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আজকে ইয়াবা বলেন, ফেনসিডিল বলেন এর থাবা এত বিস্তৃত বাংলাদেশে, ফেনসিডিল-ইয়াবা-কোকেনের এত বড় বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, সমাজটাকে ধ্বংস করার জন্য সুগভীর চক্রান্ত এটা। সেগুলো চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন এবং সঠিক পদক্ষেপ নেবেন।