ওয়াসার পানিতে জীবাণু নিয়ে পরষ্পরবিরোধী বক্তব্য

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ২৭ জুন , ২০১৮ সময় ১১:২৪ অপরাহ্ণ

ওয়াসার পানিতে জীবাণু নিয়ে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ও ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

সিভিল সার্জন আজিজুল রহমান সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াসার পানিতে জীবাণু আছে দাবি করলেও ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ বলছেন, সিভিল সার্জনের বক্তব্যের কোন ভিত্তি নেই। বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনের উদ্বৃতি ছাড়া এ ধরণের বক্তব্য খুবই দুখজনক।

বুধবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্মেলন কক্ষে অায়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন জানান, এতোদিন চুপ ছিলাম। সাধারণ জনগণের কথা ভেবে অার চুপ থাকতে পারছিনা। ওয়াসার পানিতে সমস্যা অাছে। পানির সমস্যা সমাধান না করলে জন্ডিস ( হেপাটাইটিস ই ভাইরাস) ও পানিবাহিত রোগের সমাধান করা সম্ভব নয়।

তিনি ওয়াসার দৃষ্টি অাকর্ষন করে বলেন, সাংবাদিকদের কাছে পানিতে জীবাণু  নেই দাবি না করে হালিশহর এলাকায় যান। এলাকার মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেন।  এলাকার মানুষজন ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ অাছে সেটি দেখিয়েছেন।  কোথায় লিক অাছে দেখেন। ‘

তবে শুধু ওয়াসার দোষ দেখছেন না এ সিভিল সার্জন। পানিবাহিত রোগ বাড়ার পেছনে হালিশহর এলাকার মানুষজনের অসচেতনতাকেও দায়ি করেন অাজিজুল রহমান সিদ্দিকী।

তিনি প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার তাগিদ দিয়ে বলেন, এলাকায় এমনও পানির ট্যাংক অাছে যেগুলো অনেক বছর ধরে পরিষ্কার নেই। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সেগুলো পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা দরকার। এছাড়া একটু করে বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা হয়ে যায়। এসময় টয়লেটের পানি অার খাবার পানি একাকার হয়ে যায়।

এসব বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে স্বাস্থ্য বিভাগ হাজারও কাজ করলে কোনো ভালো ফলাফল অাসবেনা বলে জানান চট্টগ্রামের এ সিভিল সার্জন।

চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ১৭৮জন জন্ডিসে অাক্রান্ত রোগী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন,  গত দুই মাসে সরকারি হাসপাতালে ১৭৮ জন জন্ডিস রোগী অাক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য পানিবাহিত রোগীর সংখ্যাতো অাছেই। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ রোগী ভালো হয়ে গেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার

 চৌধুরী,  ঢাকা থেকে তদন্ত করতে অাসা  রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) দুই সদস্য ডা. হুসাম ও ডা. মারুফ।ডা. মারুফ বলেন, গর্ভবতী মহিলা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শতকরা ৩০-৪০ ভাগ রোগী মারা যান। অন্যান্য ক্ষেত্রে রোগী মারা যাওয়ার সম্ভাবনা এক ভাগ। আমি গত দুমাস আগেও  তদন্ত করতে এসেছিলাম। সরকারি হাসপাতালে ১৭৮জন রোগী শনাক্ত হলেও কয়েক হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সাধারণ মানুষজনকে যেমন সচেতন করা দরকার, পাশাপাশি প্রশাসন ও পানি ব্যবস্থাপনা কমিটিকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার।

এদিকে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলানিউজকে বলেন, শুনেছি সিভিল সার্জন সংবাদ সম্মেলন করে হালিশহর এলাকায় ওয়াসার পানিতে জীবণু রয়েছে এমন দাবি করেছেন। তিনি কীভাবে জানলেন ওয়াসার পানিতে জীবাণু রয়েছে? আমরা নিজেরাই ওয়াসার পানির স্যাম্পল বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়েছে। তারা সেখানে কোন সমস্যা পাননি। এরপরেও সিভিল সার্জনের এরকম মন্তব্য আমরা বিস্মিত।